Advertisement

কলকাতা পুরভোটের আগে বড় বদল, পুনর্বিন্যাসে ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০০ হতে পারে

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) নিয়ে জল্পনায় এবার কার্যত সিলমোহর পড়ল। পুরসভা সূত্রের খবর, আসন্ন পুরভোটের আগে বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২০০ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটার সংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পুনর্বিন্যাস করা হবে।

কলকাতা পুরসভা।-ফাইল ছবিকলকাতা পুরসভা।-ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 11 Jul 2026,
  • अपडेटेड 10:18 AM IST
  • কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) নিয়ে জল্পনায় এবার কার্যত সিলমোহর পড়ল।
  • পুরসভা সূত্রের খবর, আসন্ন পুরভোটের আগে বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২০০ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) নিয়ে জল্পনায় এবার কার্যত সিলমোহর পড়ল। পুরসভা সূত্রের খবর, আসন্ন পুরভোটের আগে বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২০০ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটার সংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পুনর্বিন্যাস করা হবে।

মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর কলকাতা পুরসভায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যায় ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। এর ফলে সমানভাবে নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই মন্তব্যের পর থেকেই ডিলিমিটেশন নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল। হাওড়া পুরসভায় পুনর্বিন্যাসের পর পুরভোটের সিদ্ধান্ত হওয়ায় সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়।

শুরু হয়েছে প্রস্তুতি
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর কলকাতা পুরসভাকে ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে। ইতিমধ্যেই পুরসভার সার্ভেয়ার এবং আইন বিভাগ মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছে।

প্রতিটি ওয়ার্ডে কতগুলি বুথ রয়েছে, এলাকার আয়তন কত, রাস্তার সংখ্যা, বাড়িঘরের পরিমাণ, জনবসতির ধরন এবং পুর পরিষেবার পরিকাঠামো, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, প্রায় ২০০টি ওয়ার্ড ধরে পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে।

কেন এই পুনর্বিন্যাস?
বর্তমানে কলকাতায় ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩২ লক্ষ ২৫ হাজার। সরকারের লক্ষ্য, প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভোটার রাখা।

তবে শুধু ভোটারের সংখ্যা নয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার মোট জনসংখ্যা এবং নাগরিক পরিষেবার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। কারণ, ভোটার না হলেও প্রতিটি বাসিন্দাকেই পুরসভার পরিষেবা দিতে হয়। তাই শুধুমাত্র ভোটারের সংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর জন্য কোনও ওয়ার্ডের পরিকাঠামো বা প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

বাড়বে পরিকাঠামোও
ওয়ার্ড সংখ্যা ২০০-র কাছাকাছি পৌঁছালে নতুন ওয়ার্ড অফিস, পুর-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বরোর সংখ্যাও বাড়তে পারে এবং নতুন করে বরো এলাকার সীমাও নির্ধারণ করা হবে। পুর আধিকারিকদের মতে, এর ফলে শহরের প্রতিটি এলাকায় তুলনামূলকভাবে সমান পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

Advertisement

কোথায় কত ভোটার?
বর্তমানে কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যায় ব্যাপক ফারাক রয়েছে।
৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫৬ হাজার ভোটার।
৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৮৫ হাজারেরও বেশি।
১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছেন প্রায় ৪৫ হাজার ভোটার।
অন্যদিকে, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার মাত্র ১৪ হাজার।

আয়তনের ক্ষেত্রেও একই রকম বৈষম্য রয়েছে। ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড আয়তনে সবচেয়ে বড়, আবার বড়বাজার এলাকার ২২ নম্বর ওয়ার্ড আয়তন ও ভোটার, দুই দিক থেকেই সবচেয়ে ছোট। এই অসমতা দূর করতেই ডিলিমিটেশনকে জরুরি বলে মনে করছে প্রশাসন।

নতুন চ্যালেঞ্জ
ওয়ার্ড সংখ্যা ২০০-তে পৌঁছালে পুরসভার অধিবেশন কক্ষে সব কাউন্সিলরের বসার জায়গা হবে কি না, তা নিয়েও ভাবনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, কাউন্সিলরের সংখ্যা বাড়লে সভাকক্ষের পরিকাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

উল্লেখ্য, শেষবার ২০১২ সালে জোকা এলাকা কলকাতা পুরসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তিনটি নতুন ওয়ার্ড তৈরি হয়েছিল। তবে ভোটারের সংখ্যা অনুযায়ী শহরজুড়ে পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস দীর্ঘদিন হয়নি। এবার সেই প্রক্রিয়াই শুরু হতে চলেছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement