
ডানলপ থেকে বারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বি টি রোডের নীচে থাকা টালা-পলতা জলপ্রকল্পের বিশাল পাইপলাইন। এই জট কাটাতে আধুনিক মাইক্রো টানেলিং প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব সামনে এসেছে। সেই প্রস্তাব দ্রুত কার্যকর করার আবেদন জানিয়ে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে দেখা করেছেন বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী।
জানা গিয়েছে, খড়্গপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথমে মাটির নীচে একটি বিকল্প পাইপলাইন বসানো হবে। সেই পাইপলাইন দিয়ে পলতা জলপ্রকল্প থেকে টালা ট্যাঙ্কে জল সরবরাহ চালু রাখার পর ধাপে ধাপে পুরনো পাইপলাইনগুলি সরানো হবে। এতে পানীয় জল সরবরাহ ব্যাহত না করেই মেট্রো প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডানলপ থেকে বারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত সমস্যা এই পাইপলাইনগুলিই। ব্রিটিশ আমলে বসানো ছ'টি বিশাল পাইপের মাধ্যমে গঙ্গার জল পলতায় পরিশোধনের পর টালা ট্যাঙ্কে পৌঁছায়। সেখান থেকেই কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পাইপটির ব্যাস ৭২ ইঞ্চি। পাইপগুলির অবস্থানের কারণে বি টি রোডে গভীর খোঁড়াখুঁড়ি করা সম্ভব হয় না, ফলে মেট্রোর নির্মাণকাজও আটকে রয়েছে।
কৌস্তভ বাগচীর বক্তব্য, খড়্গপুর আইআইটির সুপারিশ অনুযায়ী অবিলম্বে মাইক্রো টানেলিং পদ্ধতিতে কাজ শুরু করা উচিত। তাঁর কথায়, 'প্রযুক্তি এখন অনেক এগিয়ে গিয়েছে। সেই আধুনিক প্রযুক্তিকেই কাজে লাগাতে হবে। তা না হলে বারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো পৌঁছনো আরও দীর্ঘদিন অনিশ্চিত থেকে যাবে।'
শুধু মেট্রো প্রকল্প নয়, টিটাগড় পুরসভার পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও পুরমন্ত্রীর কাছে একাধিক দাবি জানিয়েছেন বিধায়ক। তিনি জানান, পুরসভার কাছে এখনও জঞ্জাল পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় জেটিং মেশিন নেই, এমনকি বুলডোজারেরও অভাব রয়েছে। এই সব অত্যাবশ্যক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও সেচমন্ত্রী অরূপ দাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বারাকপুর শহর সংলগ্ন খালগুলির সংস্কারের দাবিও জানিয়েছেন কৌস্তভ বাগচী। তাঁর মতে, খালগুলির সংস্কার হলে জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং বর্ষাকালে জল জমার সমস্যাও অনেকটাই কমবে।