Advertisement

Mamata Banerjee: TMC ভাঙার চেষ্টা করছে BJP, এ বার গুরুতর অভিযোগ মমতার

মমতার অভিযোগ, কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অস্ত্র বা মাদক মামলায় ফাঁসানো হবে। তিনি দাবি করেন, বহু আসনে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে প্রশাসনিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 01 Jun 2026,
  • अपडेटेड 5:57 PM IST
  • 'বাংলাকে টার্গেট করে আপনারা হারিয়েছেন'
  • অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রসঙ্গ টেনেও সরব
  • সভা-মিছিল আটকানোর চেষ্টা হলেও তৃণমূল পিছিয়ে যাবে না

তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে গুরুতর অভিযোগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ভয় দেখিয়ে তৃণমূলের বিধায়কদের ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। মমতার কথায়, 'আমাদের কর্মীদের একটা মিছিল করতে দিচ্ছে না। মিটিং করতে দিচ্ছে না। বাড়ি থেকে বেরোতে দিচ্ছে না। আমাদের আড়াই হাজার পার্টি ভেঙে চুরমার করেছেন। কর্মীদের তো মারছেনই, বিধায়কদেরও ভয় দেখাচ্ছেন। বাড়ি থেকে বেরোতে দিচ্ছেন না। আমাকে কাল ৪ জন বিধায়ক অভিযোগ করে গিয়েছে।'

'বাংলাকে টার্গেট করে আপনারা হারিয়েছেন'

মমতা বললেন, 'আমাদের দলের বিধায়কদের পুলিশ দিয়ে বলানো হচ্ছে, যদি আপনি তৃণমূলের মিটিংয়ে যান, তাহলে আপনাকে অস্ত্র মামলা, গাঁজা মামলা দেওয়া হবে। সিবিআই ধরবে, ইডি ধরবে। এটা কোন গণতন্ত্রের নমুনা? পুরোটাই গ্রাস কতে চান? অত্যাচারের সব সীমা লঙ্ঘন হয়ে গিয়েছে। বাংলাকে টার্গেট করে আপনারা হারিয়েছেন। আমাকে মারতে মারতে কাউন্টার সেন্টার থেকে বের করে ভোট লুঠ করেছেন। আমি তখন ১৩ হাজার ভোটে জিতছিলাম। '

তাঁর দাবি, দলীয় কর্মীদের সভা-মিছিল করতে দেওয়া হচ্ছে না, হাজার হাজার পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তৃণমূলের সংগঠনকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অস্ত্র বা মাদক মামলায় ফাঁসানো হবে। তিনি দাবি করেন, বহু আসনে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে প্রশাসনিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছে। তাঁর কথায়, 'তৃণমূল একটি রাজনৈতিক দল। কিন্তু সেই দলটাকে ভাঙার জন্য ভয় দেখানো, চাপ সৃষ্টি করা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে।'

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রসঙ্গ টেনেও সরব

মমতার বক্তব্য, কিছু নেতা, জনপ্রতিনিধি বা সংগঠনের পদাধিকারীদের প্রভাবিত করে দল দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তবে এতে তৃণমূলের শক্তি কমবে না বলেই তাঁর দাবি। বরং এই পরিস্থিতিতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে লড়াইয়ের মানসিকতা আরও বাড়ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রসঙ্গ টেনেও সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অন্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা কমানো হলেও শাসকদলের নেতারা বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষা পাচ্ছেন। ফলতা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, 'শত শত দলীয় এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং প্রার্থীকে ভয় দেখানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ছিল না।'

Advertisement

সভা-মিছিল আটকানোর চেষ্টা হলেও তৃণমূল পিছিয়ে যাবে না

পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েত ও পুর প্রতিনিধিদের পদত্যাগে চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কাজ আইন রক্ষা করা হলেও, বাস্তবে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কড়া বার্তা দেন মমতা। তিনি বলেন, সভা-মিছিল আটকানোর চেষ্টা হলেও তৃণমূল পিছিয়ে যাবে না। প্রয়োজন হলে মঞ্চ ছাড়াই সভা হবে। তাঁকে আটকানো হলে যেখানে আটকানো হবে, সেখানেই প্রতিবাদে বসবেন। এমনকী প্রয়োজনে দিল্লিতেও আন্দোলনে যাবেন বলে জানান তিনি।

দলের অন্দরে ভাঙনের প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মমতা। তিনি জানান, কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থে কেউ কেউ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে এসব সত্ত্বেও তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টা সফল হবে না বলেই তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন। মমতার কথায়, 'কিছু মানুষকে প্রভাবিত করে বা ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে শেষ করা যাবে না। দল আরও শক্তিশালী হয়ে মানুষের পাশে থাকবে।'

Read more!
Advertisement
Advertisement