
Mamata Attack On BJP On Abhishek Issue: সোনারপুরে আক্রান্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আর এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েই এবার বিজেপি নেতৃত্ব এবং এক পদস্থ পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অভিষেক গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে হাসপাতাল থেকে তড়িঘড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে গেরুয়া শিবির ও প্রশাসনেরই একাংশ।
শনিবার এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই বিষয়ে নিজের তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সোনারপুরে হামলার পর অভিষেকের শরীরে একাধিক জায়গায় 'ব্লাড ক্লট' বা রক্ত জমাট বেঁধেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালের ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিটে (ITU) রেখে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদের থোরাসিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) এবং থ্রি-ডি সিটি স্ক্যানের (3D CT scan) মতো একাধিক জটিল ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। অভিষেকের শারীরিক পরিস্থিতি যখন এতটাই সংকটজনক, তখন কোন উদ্দেশ্যে এক বর্ষীয়ান পুলিশ অফিসার ও বিজেপি নেতারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর ডিসচার্জ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর তোলপাড় শুরু হয়েছে।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে সফরকালে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে। সফরের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে বিজেপি কর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধে "চোর চোর" স্লোগান দেন বলেও দাবি করা হয়েছে। হামলার মধ্যে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে হেলমেট পরিয়ে নিরাপদে নিয়ে যান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে বিজেপি নেতা এবং দক্ষিণ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের পক্ষ থেকে চিকিৎসক ও হাসপাতালকে হুমকিমূলক ফোন করা হচ্ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি অভিষেকের অবস্থা গুরুতর না হয়ে থাকে, তবে তাঁকে আইটিইউতে ভর্তি করা হলো কেন এবং পরে চাপের মুখে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলো কেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাপোলো হাসপাতাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরীক্ষা করে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি পরে তাঁকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান আরও চিকিৎসার জন্য।
তৃণমূল সুপ্রিমো জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন বাড়িতে পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলবে। তিনি আরও বলেন, তাঁর বাড়িকেই কার্যত হাসপাতালের মতো প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখা হচ্ছে তাঁর সুস্থতার জন্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীরে রক্ত জমাট বেঁধেছে (ব্লাড ক্লট) এবং তাঁর কোনো ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলিকে দায়ী করা হবে। তিনি আরও বলেন, হামলার সময় যদি অভিষেক হেলমেট না পরে থাকতেন, তবে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হতে পারত।
ঘটনাটিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা এবং "গণতন্ত্রের হত্যা" বলে অভিহিত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে অভিষেকের সোনারপুর সফরের বিষয়ে পুলিশকে আগেই জানানো হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সেখানে জড়ো হওয়া লোকজন বাইরের ছিল এবং বিজেপি নেতারা চিকিৎসক, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে ভয় দেখাচ্ছেন। তিনি রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাগুলিরও সমালোচনা করেন এবং বলেন, সিআইডি কাপুরুষের মতো আচরণ করেছে। তাঁর দাবি, সরকার স্বেচ্ছায় অবস্থান পরিবর্তন করেনি, বরং পরিস্থিতির চাপে তা করতে বাধ্য হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দিল্লির বিজেপি নেতারা পশ্চিমবঙ্গের কিছু বিজেপি নেতার মতো "এতটা খারাপ নন"। তিনি ঘোষণা করেন যে রবিবার থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করবেন এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সোমবার তিনি নিজে রানি রাসমণি রোডে প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন।
তিনি আরও জানান, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ফোন করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, প্রয়োজনে অভিষেককে চিকিৎসার জন্য হায়দরাবাদে স্থানান্তরের পরামর্শও দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। এছাড়া কপিল সিব্বল এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও অভিষেকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি জানান।