
জন্মদিনের রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে BJP-TMC সংঘর্ষের ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোররাতে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কালীঘাট। সকাল পর্যন্ত অবস্থানে বসেছিলেন অভিষেক। বেলায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট রোডে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে বলেন, 'পুলিশের এত গাড়ি কেন? কিডন্যাপ করতে এসেছে?'
সারারাত অভিষেকের বাড়িতে পুলিশকে নিয়ে হামলা করেছে BJP, এমনটাই অভিযোগ মমতার। তিনি অভিযোগ করেন, 'আমার বাড়িতে পুজো রয়েছে। এখন দেখছি একাধিক গাড়ি নিয়ে এসেছে। কিডন্যাপ করতে এসেছে। বেআইনি কাজ চলছে। পাড়ার ক্লাবে পুজোর কাজ করতে দেয়নি। রাস্তা আটকে একটা পুজো করছে, কোনওদিন তা হয়নি। বেআইনি ভাবে করছে যাতে আমার পুজোতে কেউ আসতে না পারে।' এরপরই তিনি বলেন, 'ক'টা বুলডোজার আছে আপনাদের? আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আমার বুকের উপর দিয়ে বুলডোজার চালান। গুন্ডাগিরি চলছে এখানে। তোমরা অত্যাচার করবে আর আমরা বুক বুঁজে তা সহ্য করব? লুম্পেনরা এসেছে রাত ৩টের সময়ে। যখন মানুষ ঘুমোয় তখন এসে হামলা করছে? কে অধিকার দিল? গণতন্ত্র নেই?'
কালীঘাট থানার ওসি অভিষেকের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, 'ওরা কি নিজেদের ভগবান মনে করছেন? আমি জানি পুলিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। কিন্তু যখন বাড়াবাড়ি হয়ে যায়, যখন লক্ষণরেখা পার করে যায়, তখন তা মেনে নেওয়া যায় না। দরকার হলে আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে দাঁড়াব। মনে রাখবেন, জনরোষ যখন বিস্ফোরণ ঘটাবে, তখন কী করবেন? মেয়েরা এগিয়ে আসুন, বঞ্চিত-লাঞ্ছিতরা এগিয়ে আসুন।'
৭ নভেম্বর, শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে তাঁর দলীয় কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবছরের মতো এ বছরও মধ্যরাতে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে কালীঘাটের বাড়ির সামনে জড়ো হন। সেই সময় এলাকায় দিয়ে যাওয়া কিছু BJP সমর্থকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে 'চোর চোর' স্লোগান তুলতে থাকেন। এতেই দু'পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। যা ক্রমশ হাতাহাতিতে গড়ায়। ইটবৃষ্টি হতে থাকে। লাঠি-বাঁশ নিয়ে চড়াও হন একে অপরের উপর। দু'পক্ষের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকায়। ঘটনায় ৭ জন জখম হয়েছেন। পুলিশকে রীতিমতো এই সংঘর্ষ থামাতে বেগ পেতে হয়। দু'পক্ষের মধ্যে ব্যারিকেড করে আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। তা সত্ত্বেও চলতে থাকে ব্যারিকেডের দুই পার থেকে উত্যক্ত বাক্যবিনিময়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে। বড় বড় ইট, পাথর ছোড়া হয়েছে। নেহাত আমার কর্মী সমর্থকরা লড়াই করে আমায় বাঁচিয়ে দিলেন। সত্যি কথা বলার জন্য যদি আমার বিরুদ্ধে কনটেম্পট অফ কোর্ট দেয় আমি হাজার বার জেলে যেতে রাজি। আমার নিরাপত্তা নিয়ে আমি ভাবি না। কিন্তু একজন সাংসদের উপর ৫ বার হামলা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?' রাতভর অবস্থানেই বসে ছিলেন অভিষেক। ভোর ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ তিনি ভিতরে প্রবেশ করেন।