
ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলের ধর্না মঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ,তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। তাঁর বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে অনেকে কটূ কথা বলছেন। এদিনের ধর্না মঞ্চে সেভাবে জনসমাগম হয়নি। ৮০ জন বিধায়ক ঘাসফুল শিবিরের টিকিটে জিতলেও কয়েকজনই এসেছেন। মদন মিত্র, শোভনদেব চট্রোপাধ্যায়, অশোক দেব, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মতো সিনিয়র নেতা-নেত্রীদের দেখা যায় দলনেত্রীর পাশে।
মমতার অভিযোগ, জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা রাজ্যের ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর তাঁদের আক্রমণ করা হয়নি। কিন্তু তাঁকে কটূ কথা বলা হচ্ছে। তবে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে তিনি সরিয়েই ছাড়বেন- এই দাবি করেন। বলেন, 'জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা মুখ্যমন্ত্রীর আসন থেকে যাওয়ার পর তাঁদের উপর তো আক্রমণ করা হয়নি। আর বিজেপির লুম্পেনরা আমার বাড়ির বাইরে গিয়ে বলছে, মমতা যেন মরে যায়। কিন্তু আমি অত সহজে মরব না। বিজেপিকে সরিয়ে তবেই মরব।'
দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে বহিষ্কৃত হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। তাঁদের নাম না করে মমতা দাবি করেন, গদ্দারদের সহযোগিতায় তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তিনি বলেন, 'যারা তৃণমূল কী তাই জানে না, তাদের দিয়ে নতুন তৃণমূল বানানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে ওসব করতে দেব না। সব বানচাল করে দেব।'
নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাস হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, ভোটের ফলাফল সামনে আসার পর থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী আক্রান্ত। বহু পার্টি অফিস দখল করেছে। ভেঙে ফেলেছে। মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করেছে। অথচ পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করছে না। তাঁর আরও অভিযোগ, বিধায়ক-কাউন্সিলরদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর দলের তরফে। মমতার কথায়, 'সবার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। রাজ্যটাকে জেলখানা বানিয়েছে বিজেপি। মোদী-শাহদের দেখা দরকার একবার এসে। আমাদের বহু কর্মীকে জেলে ভরেছে। খুন করেছে। কিন্তু কোনও বিচার পাচ্ছি না। আগে তো একটা পিঁপড়ে কামড়ালেও কেন্দ্র সরকার মহিলা কমিশন, এসসি কমিশন, এসসি কমিশন, সিবিআই, ইডি, এনআইএ পাঠিয়ে দিত। এখন তো কেউ আসছে না? এটা তো দ্বিচারিতা।'
রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে প্রতিবাদ মঞ্চ করে বসার কথা ছিল মমতার। তবে সেই অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তা নিয়েও BJP সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, 'আমাকে সভা করতে দিচ্ছিল না। তবে আজ তো করলাম। আমাকে ভয় দেখিয়ে কাজ হবে না। অনেক দেখেছি। আমি যে কোনও জায়গায় যেতে পারি। বসে যেতে পারি। আন্দোলন করে উঠে এসেছি। তাই আমাকে ভয় দেখাবেন না।'
মমতার অভিযোগ, দলীয় বিধায়কদের বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ গিয়ে তৃণমূল ছাড়ার কথা বলছে। এখানে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেই কারণে তিনি হ্যান্ডমাইকে সভা করছেন। তাঁর কথায়, 'বিধায়ক-সাংসদের ভয় দেখাবেন না। আমাদের লোকদের গ্রেফতার করবেন না। আপনাদের অত্যাচারে আত্মহত্যা করছেন। সব জায়গায় চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।'