
'শিল্ড আমি গাঁয়ের বাইরে যেতে দেব না...'। বাংলার জনপ্রিয় সিনেমা 'ধন্যি মেয়ে'-এর এই ডায়লগ এখন লোকের মুখে মুখে ঘুরছে। সৌজন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য প্রাক্তন হয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথও নিয়ে ফেলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তা সত্ত্বেও 'মুখ্যমন্ত্রী' শব্দটার প্রতি যেন মায়া কাটাতেই পারছেন না মমতা। ফেসবুক, ইনস্টা সহ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বায়োতে নিজেকে 'প্রাক্তন' লিখতে নারাজ তিনি। ফলস্বরূপ শব্দের কারিকুরিতে বদলালেন বায়ো।
শনিবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক, এক্স হ্যান্ডল এবং ইনস্টার বায়োতে 'পরিবর্তন' এল। তবে নেটিজেনরা বলছেন, 'ভাঙলেও মচকালেন না তিনি।' পরাজিত হওয়ার পরও এতদিন প্রোফাইল বায়োতে CM অর্থাৎ Chief Minister লেখা থাকলেও এদিন দুপুরে তা বদলে লেখা হল ‘Founder Chairperson All India Trinamool Congress. Chief Minister of West Bengal (15th, 16th and 17th Vidhan Sabha)’। যার অর্থ হল, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারপার্সন এবং ১৫তম, ১৬তম, ১৭তম বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী। ১৮তম বিধানসভায় তাঁর দল যে আর সরকার গড়তে পারেনি, তিনি যে এখন প্রাক্তন, সে কথা কিছুতেই মেনশন করা হল না বায়োতে।
সাধারণত ক্ষমতা গেলে নামের আগে একটি ছোট ‘প্রাক্তন’ শব্দ জুড়ে দেওয়াই দস্তুর। কিন্তু সুকৌশলে বায়ো বদল মমতার। কোথাও ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ বা ‘Ex CM’ শব্দ ব্যবহার করেননি। বদলে উল্লেখ করেছেন, তিনি তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ রূঢ় বাস্তবকে ব্যাকরণের প্যাঁচে ফেলেছেন মমতা। ভোটের ফল প্রকাশের পরের দিনই সাংবাদিক সম্মেলন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। তাঁর দাবি ছিল, তিনি হারেননি, তাঁকে ‘অনৈতিক’ ভাবে হারানো হয়েছে। ১০০ আসন লুট করেছে BJP।
তবে মমতার এ হেন কারসাজি নিয়ে নেটপাড়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কেউ বলছেন, 'রাজ্যে এবার ডাবল ডাবল মুখ্যমন্ত্রী।' কেউ আবার লিখছেন, 'সিভিক মুখ্যমন্ত্রী পেল বাংলা।'
এদিকে, শুভেন্দু অধিকারী শপথগ্রহণের পরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া বায়ো পরিবর্তন করেছেন। নিজেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।