
ক্ষমতা হারিয়ে ফের একবার নিজের পরিচিত বিরোধী মেজাজে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। এদিন দুপুর ২টো নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওয়াই চ্যানেলে পৌঁছান মমতা। তারপরেই দেখা যায় ধর্নাস্থলের কাছে ব্য়াপক বিশৃঙ্খলা। বহু তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক ধর্না মঞ্চের সামনে ভিড় জমিয়েছেন। অন্যদিকে, নেত্রীর পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, দোলা সেন, মালা রায়ের মতো নেতৃত্বকে।
তবে এদিনের কর্মসূচি শুরু করতে গিয়েই ব্যাপক বিশৃঙ্খলার মুখে পড়ে কার্যত ভাষণ থামান মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। ট্রাম ডিপোর শেডে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। চরম স্লোগানিং ও চেঁচামেচিতে তিনি ভাষণ থামাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, "আমাকে মাইক পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এই অত্যাচার, এই অনাচার মানা যায় না। মঞ্চ তৈরি করতে দেওয়া হয়নি। TMC-কে রাজনৈতিক কার্যকলাপ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু আমরা দমে যাব না।" পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, "এই দুঃশাসন, এই নৃশংসতা, যেভাবে তারা ভোট লুট করেছে এবং এখন আমাদের বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের পুলিশ দিয়ে হুমকি দিচ্ছে। ওরা এখন TMC ভাঙার চেষ্টা করছে।" কিন্তু এর মাঝেই শ্লোগান ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। টানা শ্লোগানিংয়ের জেরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তৈরি হওয়ায় ভাষণ থামান মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়।
পরে মমতা বলেন, "আজ পুলিশকে দিয়ে অত্য়াচার করানো হচ্ছে। এটা পুলিশের কাজ নয়। যেদিন অভিষেক মার খেল, সেদিন বাইরে থেকে লোক আনা হয়েছিল। তাদের দিয়ে মার খাওয়ানো হয়েছে।" বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, "আমাদের মাইক দেওয়া হয়নি। হ্যান্ড মাইক দিয়ে বক্তব্য রাখতে হচ্ছে। এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হয়না। কিন্তু আমরা দমব না। পারমিশন না দিলে যেখানে পারব, সেখানে বসে পড়ব।"
মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ছাড়াও ধর্নাস্থল থেকে বক্তব্য রাখেন কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, "এই তৃণমূল কংগ্রেস অনেক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়েছে। আমরা এখনও আন্দোলন করব, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করব।" এরপর নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়কে নিশানা করেন কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।