
শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য দিয়ে শেষ হল তৃণমূল কংগ্রেসের ধরনা কর্মসূচি। তবে আন্দোলন এখানেই থামছে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, রাত ৮টার পর মঞ্চের আলো নিভিয়ে দেওয়া হবে ঠিকই, কিন্তু তিনি নিজে সেখানেই রাত কাটাবেন। শনিবার সকাল ১০টা থেকে আবার নতুন করে শুরু হবে ধরনা কর্মসূচি।ধর্মতলার ঐতিহাসিক মেট্রো চ্যানেলে ফের জমায়েতে যোগ দেবেন TMC নেতা-কর্মীরা।
মঞ্চ থেকেই মমতার ঘোষণা, 'যাঁরা থাকতে চান, থাকতে পারেন। আমরা থাকছি। আগামিকাল আবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। যাঁরা যোগ দিতে চান, তাঁরা সকাল ৯টা বা সাড়ে ৯টার মধ্যে এসে পৌঁছে যাবেন।' মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরে স্পষ্ট হয়ে যায়, এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলের আন্দোলন আপাতত দীর্ঘমেয়াদি পথে এগোতে চলেছে।
শুক্রবার দুপুর থেকেই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে তৃণমূলের ধরনা ঘিরে জমে ওঠে রাজনৈতিক উত্তেজনা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের বহু প্রথম সারির নেতা-নেত্রীরা। শশী পাঁজা, সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, দোলা সেন, মালা রায়, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া-সহ একাধিক সাংসদ-বিধায়ক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শতাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মীও যোগ দেন কর্মসূচিতে। বিকেল চারটে থেকে মঞ্চে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।
এই কর্মসূচির মূল কেন্দ্রবিন্দু এসআইআর। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু বৈধ ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে নিশানা করেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেছে বেছে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
ধরনা মঞ্চ থেকেই মমতা জানান, অনেক মানুষকে ভোটার তালিকায় মৃত বলে দেখানো হয়েছে, অথচ তাঁরা জীবিত। সেই ২২ জনকে মঞ্চে হাজির করানোর কথাও বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'কাগজে-কলমে এঁদের মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ তাঁরা এখানে বসে প্রমাণ দিচ্ছেন যে তাঁরা বেঁচে আছেন।'
এ দিন তিনি আরও দাবি করেন, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্যার জেরে কয়েকটি পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এমনকি যাঁরা এই ইস্যুতে দিল্লি গিয়েছিলেন, সেই পরিবারগুলিও ধরনা মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান তিনি।
মমতার অভিযোগ, বাংলার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ এই মুহূর্তে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ৬৩ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম নাকি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আবার প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে তৃণমূলের প্রতিবাদ আন্দোলন।
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন পুরনো আন্দোলনের কথাও স্মরণ করেন। মঞ্চে দাঁড়িয়েই বলেন, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের আন্দোলনের স্মৃতিচারনা করেন। সেই সময়ও তিনি ধরনা ও অনশন করেছিলেন।
তবে এসআইআর নিয়ে বিতর্ক এখানেই থামছে না। তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন চলবে। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের এই কর্মসূচি কত দিন চলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শনিবার সকাল থেকেই যে ফের তৃণমূলের ধরনা শুরু হচ্ছে, তা আপাতত বেশ স্পষ্ট।