
সংসদে 'ঋতব্রত মডেল' এখন কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা। বিধানসভার মতোই লোকসভাতেও ভেঙে টুকরো হতে চলেছে তৃণমূল। পরিষদীয় দল ইতিমধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গিয়েছে। সংসদীয় দলেও বিদ্রোহীদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে কি দলের প্রতীকও চলে যাবে?
তৃণমূলের প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুলের দাবিদার হবে বিদ্রোহী বিধায়করা? ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবার তৃণমূলের প্রতীকের দাবি জানাবেন? bangla.aajtak.in-কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, 'আজকে হয়তো দাবি জানাচ্ছি না। তবে কাল কী হবে বলতে পারব না। যা করব পরিষদীয় দলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে করব।'
সোমবার যখন তৃণমূলের একাধিক সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করছেন বলে সূত্র মারফত খবর মেলে। তখন বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও ঋতব্রত বলেন, 'এখন ১টা ২০ বাজে ঘড়িতে। এক ঘণ্টা বাদে ২টো ২০ মিনিটে বা ৩টে ২০ মিনিটে কী হবে আমি বলতে পারব না।' তাঁর এই কথাতেও বড় ইঙ্গিত দেখছেন রাজনৈতিক কারবারিরা।
প্রতীক হাতছাড়া হবে মমতার?
এ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনীত তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য bangla.aajtak.in-কে বলেন, 'উনি কী করবেন, সেটা ওঁর ব্যাপার। আমরা এ ব্যাপারে কী বলতে পারব। হাইপোথেটিক্যাল ভাবনার কী উত্তর দেব?'
নিয়মটি ঠিক কী?
তাঁরাই যে 'আসল' তৃণমূল, তা প্রমাণ করতে হবে বিদ্রোহী বিধায়ক এবং সাংসদদের। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেলে লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে হবে প্রতীকের জন্য। কমিশনের সচিবের কাছে লিখিত আকারে সেই আবেদন জমা দিতে হবে আবেদন পত্র।
ওই আবেদন পত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের স্বাক্ষর থাকতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু যে বিধানসভা এবং লোকসভার সাংসদ-বিধায়কদের সিংহভাগের সমর্থন দরকার তাই নয়, একই সঙ্গে দলের সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীদেরও সিংহভাগের সমর্থন দরকার পড়ে।
প্রতীকের হাতবদল কীভাবে হতে পারে?
যে পক্ষের হাতে বেশি সাংসদ-বিধায়ক এবং পদাধিকারীদের সমর্থন থাকবে তাঁরা দলের আসল নাম-প্রতীক এবং তহবিলের চাবি পাবে। অন্য পক্ষকে নতুন দল হিসাবে রেজিস্টার করার সুযোগ দেবে নির্বাচন কমিশন। তবে যদি কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারে তবে দলের প্রতীক এবং নাম ফ্রিজ করে দিতে পারে কমিশন। দুই শিবিরকেই বলা হয় নতুন নাম এবং প্রতীক নিয়ে চলতে। দলের তহবিল ভাগ করে দেওয়া হয় আনুপাতিক হারে।
তৃণমূলের ক্ষেত্রে কী হবে?
বর্তমানে তৃণমূলের পরিষদীয় দলে বিদ্রোহী বিধায়করাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। সংসদীয় দলও সেই দিকেই এগোচ্ছে। দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেদিকে এবার নজর থাকবে সকলের। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশনই। কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতেও যেতে পারে যে কোনও পক্ষ।