
কালীঘাট তৃণমূলের মিছিল ঘিরে বালিগঞ্জে ধুন্ধুমার। হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে বুধবার দুপুর আড়াইটায় বালিগঞ্জ থেকে মিছিল শুরু করে মমতাপন্থী তৃণমূলের কর্মীরা। কিন্তু মিছিল কিছুদূর এগোতেই ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। দাবি করা হচ্ছে, মিছিলের পাশ থেকে যাওয়ার সময় 'চোর' শ্লোগান দেন বিজেপি কর্মীরা। আর এরপরেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে কালীঘাটে নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ খোলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। তিনি সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেন। পদ্ম শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করে মমতা বলেন, "যারা রামের টাকা চুরি করে খায়। যারা প্রণামী বাক্স থেকে টাকা চুরি করে, তাঁরাই রামের নামে শ্লোগান দিয়ে রামের অবমাননা করছে। আমি বলি 'রামকা নাম বদনাম না করো।'"
সম্প্রতি, উত্তরপ্রদেশে রাম মন্দিরে ভক্তদের দান করা অর্থ, সোনা, গয়না ও রুপোর সামগ্রী তছরুপের অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশ। এছাড়াও দেশের আরও একাধিক মন্দিরের দানবাক্স রয়েছে স্ক্যানারের নীচে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুচারু ভাবে এদিন মিছিলের উপর হামলা প্রসঙ্গে বিজেপিকে সেই রাম মন্দিরে আর্থিক তছরুপ নিয়েই নিশানা করলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়।
এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, "আমাদের ছেলে মেয়েরা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে মিছিল করতে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সেই মিছিলে বাধা দিয়েছে। এটা পুলিশ কী করে করতে পারে?" একইসঙ্গে মমতার প্রশ্ন, "পুলিশ যখন জানে এটা হাইকোর্টের অর্ডারে হচ্ছে। তারপরেও এটা তাঁরা কী করে করতে পারে? আমাদের হ্যান্ড মাইকের পারমিশন ছিল, সেটা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের চেয়েও পরিস্থিতি খারাপ।"
মমতার দাবি, "সকাল থেকেই এলাকায় তাণ্ডব হয়েছে। ছেলেদের পাশাপাশি মহিলাদেরও মারধর করা হয়েছে। " পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী জানান, এই ঘটনা নিয়ে ফের একবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন তিনি।
উল্লেখ্য, আদালতের অনুমতি নিয়ে এ দিন বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে তৃণমূলের ছাত্র, যুবদের মিছিল ছিল হাজরা মোড় পর্যন্ত। অভিযোগ, অন্য একটি মিছিল সেখানে ঢুকে পড়ে। এর ফলেই অশান্তি শুরু হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, এ ভাবে মিছিলে ঢুকে পড়ার অর্থ আদালত অবমাননা। বিজেপির লোকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। শুরু হয় মারপিট। শেষে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পুলিশের বিরুদ্ধে।