
বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর মমতা তৃণমূলের সঙ্গ ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেন সাংসদ সায়নী ঘোষ। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ভরসা এখুনও অটুট রয়েছে সায়নীর। তৃণমূলের প্রতীক হারানো প্রসঙ্গে যাদবপুরের সাংসদ বলছেন, 'উনি অনেক উচ্চমানের নেত্রী। আগেও অনেক ক্রাইসিস থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এবারও পারবেন।' এবার নেত্রী মমতাকে নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। দুঃসময়ে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন, তাঁদের সুবিধাবাদী বলে নিশানা করেছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা আসানসোলের বিধায়ক। মমতার সঙ্গত্যাগীদের উদ্দেশে অগ্নিমিত্রার প্রশ্ন, যেখানে সুবিধা পাব, সেখানেই চলে যাব? এত তাড়াতাড়ি তৃণমূল শেষ হয়ে যাবে, সেটাও কখনও ভাবিনি। রাজনীতিতে দম্ভ মানুষ গ্রহণ করে না, এটাও আমাদের কাছে একটা শিক্ষার।
অগ্নিমিত্রা কী বলছেন?
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, 'আমরা অনেক সময়েই বক্তব্য রাখার সময়ে বলেছি, অস্তিত্ব থাকবে না, কিন্তু সেটা যে এত তাড়াতাড়ি সত্যি হয়ে যাবে, ভাবতে পারিনি। এটা আমাদের কাছে শিক্ষনীয়। ঔদ্ধত্য, নিজেকে সর্বোত্তম মনে করা, মানুষকে সম্মান না দেওয়া- তার পরিণাম কী হতে পারে, শেখার আছে।' আর সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করেন অগ্নিমিত্রা । বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো লড়াই করেছিলেন, সেটা তো অস্বীকার করতে পারি না। কিন্তু আজকে যাঁরা তাঁর হাত ছেড়ে দিলেন, এটাও কিন্তু একটা শিক্ষার। কারণ লয়্যালটি কোথায় গেল রাজনীতিতে? আজ ক্ষমতায় নেই বলে ছেড়ে চলে গেলেন?'
প্রসঙ্গত নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে এর আগেও কুর্নিশ করেছেন ডান-বাম সব শিবিরের নেতৃত্ব। তবে বিধানসভা ভোটের পর সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসই অস্বস্তি সঙ্কটে। লোকসভার সাংসদের সংখ্যাগুরু অংশ বিদ্রোহী হয়েছে। আর বিধায়কদের একটা বড় অংশ রয়েছে ঋতব্রত গোষ্ঠীর সঙ্গে। ফলে দুই তৃণমূলের লড়াইয়ে দলের নাম থেকে প্রতীক সব হাতছাড়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই আবহে দাঁড়িয়ে তৃণমূন নেত্রীর লড়াইয়ের কথা বলে মমতা-ত্যাগী নেতারদের 'সুবিধাবাদী' বলে কটাক্ষ করলেন অগ্নিমিত্রা।