
২১ জুলাই ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউজের সামনে সভা করা যাবে না। কালীঘাট এবং ঋতব্রত তৃণমূলকে জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। তবে সেখানেই সভা করতে নাছোড়বান্দা কালীঘাট শিবিরের নেতারা। অন্তত শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তেমনটাই জানালেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। এটা অগণতান্ত্রিক। আদালতে তাঁরা যাবেন। আইনি লড়াই লড়বেন।
কল্যাণ বলেন, '২১ জুলাইয়ের সভার জন্য আমরা যে আবেদন করেছিলাম, তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এবার কোথায় সভা হবে, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। তবে সভা ২১ জুলাইই হবে। আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। এ ধরনের পদক্ষেপ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'
তাঁর দাবি, বিরোধীদের কণ্ঠস্বর দমন করতেই ২১ জুলাইয়ের সভা ধর্মতলায় করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও একহাত নেন তিনি। তাঁর কথায়, 'বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের কথা শুনতেই ভয় পাচ্ছেন। তিনি সব ধরনের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও মিছিল বন্ধ করে দিতে চান। কিন্তু আমরা রাজনৈতিক ময়দানেও লড়ব, আদালতেও লড়ব।'
গুন্ডাদমন আইনের সমালোচনাও করেন কল্যাণ। তাঁর আক্রমণ, 'যারা সমাজবিরোধী, তারাই সমাজবিরোধী বিল এনেছে। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব, এক ইঞ্চিও জমি ছাড়ব না। সিপিএম ও কংগ্রেসের মতো অন্য বিরোধী দলগুলি কী করবে, তা তারা ঠিক করবে। কিন্তু আমরা মাঠেও লড়ব, আদালতেও লড়ব। এমন স্বৈরাচারী সরকার আগে কেউ দেখেনি। তিনি (মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু) ইন্দিরা গান্ধী ও সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের পথ অনুসরণ করছেন।'
ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর খান খান হয়ে যায় দলটি। মমতা ও ঋতব্রত শিবিরে ভাগ হয়ে যান বিধায়করা। ফলে আদৌ ২১ জুলাইয়ের সভা হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে দুই শিবিরের নেতারাই ঘোষণা করেন, শহিদ দিবস পালিত হবে। কালীঘাট ও ঋতব্রত গোষ্ঠীর তরফে ধর্মতলায় সভা করতে চেয়ে অনুমতিও চাওয়া হয়। তবে পুলিশ তা নাকচ করে দেয়।