
কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রতি শুক্রবার প্রার্থনার অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকলে, সেখানে দুর্গাপুজো করার অনুমতি দেওয়া হবে না কেন? প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ। মামলাটি ঘিরে বুধবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হয়।
কী নিয়ে মামলা?
মামলাকারীর দাবি, ভারতের সংবিধান ধর্মীয় নিরপেক্ষতার কথা বলে এবং দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নিজের ধর্ম পালন করার সমান অধিকার দেয়। তাঁর অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টের ক্ষেত্রে সেই নীতির সমতা বজায় থাকছে না।
সঞ্জয় ঘোষের দাবি, হাইকোর্টের ছাদে প্রতি শুক্রবার একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রার্থনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই যুক্তিতেই তিনি হাই কোর্টের ছাদে দুর্গাপুজো করার পাশাপাশি ‘ভারত মাতা’র মন্দির তৈরির অনুমতিও চেয়েছিলেন।
আদালত কী জানতে চাইল?
মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ সরাসরি জানতে চায়, হাইকোর্টের ছাদে আদৌ নামাজ পড়ার অনুমতি রয়েছে কি না এবং সেখানে কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ নিয়মিত প্রার্থনা করেন কি না।
এরপর বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার জন্য হাই কোর্টের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। রেজিস্ট্রারকে নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। ১২ অক্টোবরের মধ্যে সেই রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাকারীর যুক্তি কী?
মামলাকারী সংবাদমাধ্যমকে জানান, সংবিধান যখন সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের কথা বলে, তখন একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় যদি আদালত চত্বরে প্রার্থনার সুযোগ পায়, অন্য ধর্মের মানুষও একই ধরনের সুযোগ দাবি করতে পারেন। তাঁর বক্তব্য, এই কারণেই হাই কোর্টের ছাদে দুর্গাপুজো বা ভারত মাতার পুজোর অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
পরে কী হল?
এই মামলাকে ঘিরে আদালত আগে থেকেই প্রশ্ন তুলেছিল, বিষয়টি আদৌ জনস্বার্থের আওতায় পড়ে কি না। পরে ২৫ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি জনস্বার্থের মামলা হিসেবে খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই আবেদনকে জনস্বার্থের বিষয় হিসেবে দেখা যায় না।
ফলে হাইকোর্টের ছাদে দুর্গাপুজোর অনুমতি চেয়ে করা এই আবেদন শেষ পর্যন্ত আদালতের অনুমোদন পায়নি। একই সঙ্গে হাই কোর্টের ছাদে ধর্মীয় প্রার্থনা সংক্রান্ত দাবির সত্যতা নিয়েও রেজিস্ট্রারের সরেজমিন রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল।