
কলকাতার স্কুলগুলির জন্য মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকনকে। এই খবর সামনে আসতেই অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের এবার বোধহয় কাজ চলে যাবে। তবে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এহেন শঙ্কা কাটিয়ে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, 'একজনও রাঁধুনি মা, দিদি, বোন কর্মচ্যুত হবেন না।'
আজ ইসকনের মিড ডি মিলের সূচনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের কাজ নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। সকলকে আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু বলেন, 'একটা মিছিল আমার চোখে পড়েছে এক মাস আগে। মিড ডে মিলের যে সব রাঁধুনিরা রয়েছে, তাঁদের নিয়ে একটা মিছিল হয়। সেখানে দাবি করা হয়, ইসকনকে দিয়ে মিড ডে মিল দেওয়া হচ্ছে। হিন্দুজের সরকার কাজ কেড়ে নিচ্ছে। আমি মিছিলটা দেখেছিলাম। কিন্তু রিয়্যাক্ট করিনি... আমি মিছিলকারীদের উদ্দেশে বলি, একজনও রাঁধুনি মা, দিদি, বোন কর্মচ্যুত হবেন না। ইসকন তাদের রান্না এবং বিতরণের প্রক্রিয়ায় তাদের যুক্ত করবে।'
বাড়ানো হল মাইনে
শুধু চাকরি যাবে না বলে আশ্বাসই দেননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তিনি রাঁধুনিদের সাম্মানিক বাড়ানোর বিষয়েও ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগের সরকার রাঁধুনিদের দু'হাজার টাকা করে দিত। কিন্তু অগাস্ট মাস থেকে তাদের ১ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
মিড ডি মিল নিয়ে কী বললেন?
শুভেন্দু জানান, অভিভাবক, প্রিন্সিপাল চেক করবে খাবার। তারপরই সেটা দেওয়া হবে ছাত্রছাত্রীদের। প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট চেক করে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন মিড ডে মিল দেওয়া হবে।
এক্ষেত্রে ৫০০টি বিদ্যালয়ে ৪৪ হাজার শিক্ষার্থীকে কলকাতায় মিড ডে মিল দেওয়া হবে। ৩ মাসের মধ্যে এই পরিষেবা সম্প্রসারিত হয়ে আড়াই লক্ষ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করছে ইসকন। সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। মিড ডে মিলের বরাদ্দ প্রাথমিক ৬ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা। আপার প্রাইমারিতে ১০ টাকাই থাকছে।
মিড ডে মিলে কী কী দেওয়া হবে?
ভাত/খিচুড়ি/পোলাও
সোয়াবিন/সবজি/বাদাম/পনির/ছানা/মিষ্টি/ফল
পাশাপাশি সরকার আলাদা করে পড়ুয়াদের ২ দিন ডিম দেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এরপরই শুভেন্দু বলেন, 'আশা করি সমালোচকরা আজকে একটু শান্তিতে থাকবেন। মুখ বন্ধ রাখবেন আর মনে মনে প্রশংসা করবেন।'