
সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল তৈরির জন্য নাবালকের উপর নৃশংস অত্যাচার। জোর করে পেট্রল খাওয়ানো থেকে শুরু করে তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কলকাতার গড়ফার নেলিনগর এলাকায় একটি পুকুরের কাছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর এই ঘটনা ঘটে। যাদবপুরের বাসিন্দা ওই নাবালক একটি পুকুরের কাছে দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় মূল অভিযুক্ত অর্ঘ্য সাহা-সহ কয়েকজন তার কাছে আসে। তাদের মধ্যে কয়েকজন নাবালকও ছিল। নেহাতই খেলার নাম করে তারা ওই নাবালকের কাছে যায়। এরপর জোর করে তার মাথায় হেলমেট পরিয়ে চোখ বেঁধে দেওয়া হয়। তারপর চলে মারধর।
অভিযোগ, সেখানেই থেমে থাকেনি অভিযুক্তরা। মারধরের পাশাপাশি চলে নৃশংস অত্যাচারও। একটা সময়ে আর সহ্য করতে না পেরে ওই নাবালক হেলমেট খুলে ফেললে তাকে জোর করে পেট্রল খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সে হাত দিয়ে ঢেলে পেট্রল সরিয়ে দেয়। এরপর তার শরীরে পেট্রল ঢেলে দেশলাই জ্বালিয়ে তার দিকে ছুড়ে দেওয়া হয়। এতে ওই নাবালকের পোশাকে আগুন ধরে যায়।
কোনওরকমে সেখান থেকে দৌড়ে পালাতে সক্ষম হয় সে। নিজের গায়ের জ্বলন্ত পোশাকও খুলে ফেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে তাকে সাহায্য করেন। তাঁরাই খবর দেন নাবালকের পরিবার এবং যাদবপুর থানায়। ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে কিছুটা জখম হয় ওই নাবালক। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, গোটা অত্যাচারের ঘটনাটি মোবাইল ক্যামেরায় রেকর্ড করছিল অপর এক নাবালক। সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল হিসেবে পোস্ট করার উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এমনকী, পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই নাবালককে বলতে শেখানো হয়েছিল, সে স্বেচ্ছায় রিল তৈরির জন্য এই কাজ করছিল।
নাবালকের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করেছে। এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত অর্ঘ্য সাহা-সহ মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ২ জন নাবালক রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।