Advertisement

Mira Bhattacharjee on Suvendu Adhikari: 'যেভাবে কাজ করছেন আমি খুব খুশি', শুভেন্দুকে সার্টিফিকেট প্রাক্তন CM বুদ্ধদেবের স্ত্রীর

নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বুদ্ধ-জায়া বলেন, 'মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের মতো পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই চালু করা হয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে, যিনি রাজ্যের কল্যাণে কাজ করেন, তিনি আমাদের শ্রদ্ধার যোগ্য। আমরা সকলেই চাই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য ও শান্তিতে বসবাস করুক।' রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে বলতে গিয়ে মীরা ভট্টাচার্য বলেন, 'তাঁর সঙ্গে আমার কখনও দেখা করার সুযোগ হয়নি। তবে আমি আশাবাদী, তিনি তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করবেন।'

নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করলেন মীরা ভাট্টাচার্যনতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করলেন মীরা ভাট্টাচার্য
রাহি হালদার
  • কলকাতা,
  • 07 Jun 2026,
  • अपडेटेड 11:22 AM IST

রাজ্যের নতুন সরকারের প্রশংসা করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত রাজ্য সরকারের প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন তাঁকে মুগ্ধ করেছে। আজতক বাংলাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মীরা ভট্টাচার্য বলেন, 'মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে নতুন সরকার যেভাবে কাজ করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি খুশি যে তাঁরা এত দ্রুত তাদের প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়ন করছে।' মীরা ভট্টাচার্য আরো বলেন, 'নতুন সরকার নির্বাচনের আগে করা প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে তারা যেভাবে কাজ করছে তা দেখে আমি খুব খুশি।'

নতুন সরকারের প্রশংসা 
নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে  বুদ্ধ-জায়া  আরও বলেন, 'মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের মতো পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই চালু করা হয়েছে। রাজনৈতিক  মতাদর্শ নির্বিশেষে, যিনি রাজ্যের কল্যাণে কাজ করেন, তিনি আমাদের শ্রদ্ধার যোগ্য। আমরা সকলেই চাই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য ও শান্তিতে বসবাস করুক।' রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে বলতে গিয়ে মীরা ভট্টাচার্য বলেন, 'তাঁর সঙ্গে আমার কখনও দেখা করার সুযোগ হয়নি। তবে আমি আশাবাদী, তিনি তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করবেন।'


সেইসঙ্গে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ঘরণী দাবি করেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসন এবং বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের মধ্যে কোনও তুলনা হতে পারে না। নন্দন, দ্বিতীয় হুগলি সেতু, সাহিত্য  অ্যাকাডেমি এবং শিশু কিশোর  অ্যাকাডেমি সহ শত শত প্রকল্প বামফ্রন্ট আমলে বাস্তবায়িত হয়েছিল। সেই সময় কৃষিক্ষেত্রে বাংলা দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজ্য ছিল।'

শিল্পায়ন প্রসঙ্গে মীরা ভট্টাচার্য
শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'একসময় বাংলা দেশের শীর্ষস্থানীয় কৃষিপ্রধান রাজ্য ছিল। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজ্যে শিল্প আনতে চেয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, পরবর্তী ১৫ বছর ধরে সৃষ্ট বাধার কারণে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে পারেনি।' সিঙ্গুর বিতর্কের প্রসঙ্গে মীরা ভট্টাচার্য দাবি করেন, প্রস্তাবিত অটোমোবাইল কারখানার বিরোধিতা করার জন্য এখন অনেক বাসিন্দাই অনুশোচনা করেন। তিনি বলেন, 'সিঙ্গুরের মানুষ এখন তাদের ভুল বুঝতে পারছেন এবং উপলব্ধি করছেন যে সেই সময়ে তাদের কীভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। যদি একটি অটোমোবাইল কারখানা তৈরি হতো, তাহলে বাংলার অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যেত।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্ন সিঙ্গুরের অনেক ঊর্ধ্বে  ছিল। মীরা ভট্টাচার্য জানান , 'তিনি (বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য) রাজ্যজুড়ে শিল্প স্থাপন করতে চেয়েছিলেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাজের সন্ধানে বাংলা ছাড়তে না হয়। একটি অটোমোবাইল কারখানা স্থাপিত হলে এর পাশাপাশি আরও অনেক সহায়ক শিল্পেরও বিকাশ ঘটত।'

Advertisement

সিঙ্গুর নিয়ে মুখ খুললেন
নতুন সরকার সিঙ্গুরে শিল্প ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে, এই খবরকে স্বাগত জানিয়ে মীরা ভট্টাচার্য  মন্তব্য করেন, 'সিঙ্গুরে শিল্প ফিরে এলে তা জনগণের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে। আমি এই দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানাই।' তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন,  ' উন্নয়ন শুধু শিল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। সরকারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার দিকেও মনোযোগ দেওয়া উচিত। গত ১৫ বছরে এই দুটি খাতের অবস্থাই উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে।'

মীরা ভট্টাচার্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রচেষ্টাকেও সমর্থন জানান। তাঁর মতে, 'রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে, যিনি রাজ্যের কল্যাণে কাজ করেন, তিনি সমর্থন পাওয়ার যোগ্য। সবাই চায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ও শান্তিতে জীবনযাপন করুক।'

বামফ্রন্টের ভবিষ্যৎ
বামফ্রন্টের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে মীরা ভট্টাচার্য জানান, তরুণ প্রজন্মের নেতারা দলটিকে পুনর্গঠনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং দীপ্সিতা ধরের  মতো নেত্রীদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'তাঁরা রাজ্যে বামফ্রন্টকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন।' মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের নির্বাচনী পারফরম্যান্স সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, 'তিনি  (মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়) খুব অল্প ব্যবধানে হেরেছেন। পরাজিত হলেও, ব্যবধানটি ছিল অত্যন্ত সামান্য।' মুস্তাফিজুর রহমানের বিষয়ে মীরা ভট্টাচার্য ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, 'তিনি একজন খুব ভালো মানুষ। যদিও তিনি আগে নির্বাচনে হেরেছিলেন, তবুও তিনি গ্রামীণ এলাকার মানুষের মধ্যে কাজ করে গেছেন। সেই কারণেই ভোটাররা এবার তাঁকে নির্বাচিত করেছেন।' তিনি আরও বলেন, 'বিধানসভায় শপথ গ্রহণের দিনে তাঁর মন্তব্য শুনলেই বোঝা যায় তিনি কতটা শিক্ষিত, মার্জিত এবং স্পষ্টভাষী।'

সাক্ষাৎকারের শেষে মীরা ভট্টাচার্য পুনরায় বলেন, তাঁর প্রয়াত স্বামীর স্বপ্ন ছিল পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন। তিনি বলেন, 'বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্ন সিঙ্গুরের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি রাজ্যকে সর্বতোভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। নতুন সরকার যদি বাংলার পূর্বের মর্যাদা ও গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারে, তবে তা অবশ্যই স্বাগত ও প্রশংসিত হবে।'
 

Read more!
Advertisement
Advertisement