
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতকে হিন্দুদের পথ প্রদর্শক। মন্তব্য করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, হিন্দুরা যখনই সঙ্কটে পড়েছে তখনই মোহন ভাগবতের মতো সংঘ প্রধানরা দিশা দেখিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জেন জি-দের উদ্দেশে একাধিক বার্তা দেন মোহন। সেই প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, 'তিনি যা বলেছেন তা অনুকরণীয়। কারণ ভাগবত হিন্দুদের ফ্রেন্ড, ফিলোজফার ও গাইডের কাজ করে থাকেন।'
মুম্বইয়ে ইন্ডিয়াজ ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনসের ওই অনু্ষ্ঠানে মোহন NEET আন্দোলনে প্রতিবাদীদের ভূমিকা নিয়ে বলেছিলেন, সরকার বিরোধী কথা বললে, আন্দোলন করলেই সেটা দেশবিরোধী কাজ নয়। বরং তারা দেশের ভালো চায়, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার চায়,সেজন্যই প্রতিবাদ করেছে। তবে সেই প্রতিবাদের একটা দিশা থাকা উচিত।
এদিন দিলীপ মোহনের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, 'রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত এক অর্থে হিন্দু সমাজের অভিভাবক, বন্ধু, দার্শনিক এবং পথপ্রদর্শক। সমাজ যখনই কোনও সমস্যার মুখোমুখি হয় বা তরুণ প্রজন্মকে ভুল পথে যেতে দেখা যায়, তখন তাঁদের কথা শোনা, পরিস্থিতি বোঝা এবং সঠিক পথ দেখানো তাঁর দায়িত্ব। তিনি বরাবরই সেই কাজ করে আসছেন।'
যুব সমাজকে বার্তাও দেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী। দাবি করেন কিশোর-কিশোরীরা কখনও কখনও দেশ বিরোধী কাজ করে ফেলেন। তাঁর কথায়, 'যুবক যুবতীরা হুজুগে কখনও সখনও দেশের বিরুদ্ধে উৎপাত করেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে তাঁদের ক্ষমা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিদেশি এজেন্ট-সহ নানা মাধ্যমে তরুণদের ভুল পথে পরিচালিত করা হতে পারে। তবে তাঁদের কাউন্সেলিং এবং সঠিক দিশা দেখানো জরুরি। মোহনজি এগিয়ে এসেছেন। সেই কাজে। এটা প্রশংসার দাবি রাখে।'
প্রসঙ্গত, দিল্লির যন্তর মন্তরে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলবনে উত্তাল হয়েছিল দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটূ কথা বলার অভিযোগ উঠেছিল আন্দোলনকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে। যদিও আন্দোলনকারীরা পাল্টা দাবি করেছিলেন, তাঁদের উপর নির্বিচারে অত্যাচার করেছে পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলনকারীদের দেশদ্রোহীও বলেছিল অনেকে। এই বিতর্কের মধ্যেই জেন জি-দের গতকাল বার্তা দেন মোহন।