
দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে হাওড়াবাসীর। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের নভেম্বরেই হতে পারে বহু প্রতীক্ষিত হাওড়া পুরসভার নির্বাচন। তার আগে দ্রুত শেষ করা হবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) প্রক্রিয়া। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুনর্বিন্যাসের পর হাওড়া পুরসভায় মোট ওয়ার্ড থাকবে ৬০টি। অর্থাৎ, ৬০টি আসনেই ভোট হবে। একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজও শুরু হতে চলেছে। ফলে হাওড়ার পাশাপাশি কলকাতাতেও প্রায় একই সময়ে পুরভোট হওয়ার জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হাওড়া পুরসভার শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৮ সালে নির্বাচিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত নতুন নির্বাচন হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচিত কাউন্সিলরহীন অবস্থায় চলছে হাওড়া পুরসভা। এতদিন ধরে কবে নির্বাচন হবে, পুরনো ওয়ার্ড বিন্যাস বহাল থাকবে কি না, নাকি নতুন করে সীমানা নির্ধারণ হবে, এসব প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর পাননি সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী তথা হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাই জানান, আগের সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৬৬-এ উন্নীত করেছিল, যা কার্যত বাস্তবায়িত হয়নি এবং একাধিক আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি করেছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সমীক্ষার ভিত্তিতে উন্নত নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে এবার ৬০টি ওয়ার্ড রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নভেম্বরেই পুরভোট হবে, এ বিষয়ে সরকার আশাবাদী।
একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজও দ্রুত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। ফলে হাওড়ার সঙ্গে অথবা তার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচনও হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই জানিয়েছিলেন, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
হাওড়া পুরভোট এতদিন আটকে থাকার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা। ২০১৫ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার বালি পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ড হাওড়া পুরসভার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বেড়ে হয় ৬৬। পরে ২০২১ সালে বালিকে আবার পৃথক পুরসভা হিসেবে গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ফের ৫০-এ নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই উদ্দেশ্যে বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ হলেও দীর্ঘদিন তা রাজভবনের অনুমোদন পায়নি।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার ৫০টি ওয়ার্ডের নতুন সীমানা নির্ধারণ করে ৬৬টি ওয়ার্ড তৈরির কাজও সম্পন্ন করে এবং চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। কিন্তু ২০২৫ সালের মে মাসে তৎকালীন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস পুরনো সংশোধনী বিলে সই করে দেওয়ায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। কারণ, সেই আইনে হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০-ই থাকার কথা। ফলে আবার নতুন করে ডিলিমিটেশন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া চালানোর প্রয়োজন দেখা দেয়।
এই অচলাবস্থা কাটাতেই চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় ‘হাওড়া পুরসভা (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ পাশ করা হয়। যদিও সেই বিলে এখনও রাজ্যপালের সম্মতি মেলেনি। এরই মধ্যে বর্তমান সরকার নতুন করে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করে নির্বাচন আয়োজনের পথে এগোতে চাইছে। ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইন’ অনুযায়ী এই পুনর্বিন্যাসের দায়িত্ব পালন করবে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।