
দুর্গাপুজোয় অনুদান দেওয়া শুরু করেছিল তৃণমূল সরকার। ২০১৮-এ রাজ্য়ে প্রথম দুর্গাপুজোর অনুদান দেওয়া শুরু করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। শুরুতে অঙ্কটা ছিল ক্লাব বা সংগঠন পিছু ১০ হাজার টাকা। সেই অঙ্কটাই ক্রমে বাড়তে থাকে। ২০২৩-এ ছিল ৭০ হাজার টাকা, ২০২৪-এ ৮৫ হাজার টাকা, ২০২৫-এ অর্থাৎ বিধানসভা ভোটের আগের বছর কার্যত কল্পতরু হয়ে যায় তৃণমূল সরকার। একলাফে পুজো অনুদানের অঙ্ক বাড়িয়ে করা হয় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। পুজো অনুদান নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারও। মুখ্যমন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন, 'আমি নিশ্চয় আলাপ আলোচনা করব। আমি একটা কথা শুধু বলব, ওই সামান্য সরকারি অর্থ যাদের প্রয়োজন নেই, আমার মনে হয়, তাদের দেওয়ারও দরকার নেই। যাঁরা এই অর্থের জন্য পুজো করতে পারেন না বা পারবেন না, তাঁদের পাশেই সরকার থাকবে। পুজো হবে, আরও বেশি সংখ্যায় হবে।' এবার রথযাত্রার আগেই বিরাট ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এবার থেকে ১০০-১৫০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যশালী বিভিন্ন রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেবে সরকার।
ইতিমধ্যেই এই ঘোষণা এসেছে নবান্ন থেকে। জানা যাচ্ছে, রাজ্যের প্রত্যেক জেলায় রথযাত্রা উৎসবকে আরও জাকজমকভাবে পালন করার উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। নবান্নের তরফে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, রাজ্যের ঐতিহ্যপূর্ণ রথযাত্রা কমিটিগুলিকে পাঁচ লক্ষ টাকা অনুদান দেবে রাজ্য সরকার। আগামী ১৩ জুলাই কমিটিগুলিকে চেক তুলে দেওয়া হবে। রথযাত্রা উপলক্ষে প্রতিটি জেলায় 'সেবা শিবির' স্থাপনের নির্দেশও দিয়েছে সরকার। সেবা শিবির পরিচালনার জন্য প্রতিটি জেলার জন্য ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিগত সরকারের আমলে শুধুমাত্র দুর্গাপুজোয় অনুদান দেওয়া হয়েছে। রথযাত্রায় রাজ্যের বড় অঙ্কের অনুদান এই প্রথম। মূলত, রথযাত্রা উৎসবকে আরও জমকালো এবং সুশৃঙ্খল করতে এই বিশেষ প্যাকেজের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো রাজ্য সরকারের র বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৩ জুলাই এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে রথযাত্রা কমিটিগুলোর হাতে এই ৫ লক্ষ টাকার চেকের অর্থ তুলে দেবেন।
আগামী ১৬ জুলাই থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে নয় দিনব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব। প্রশাসনিক হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে নথিভুক্ত দুর্গাপুজোর সংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার হলেও, রথযাত্রা কমিটির প্রাথমিক তালিকাটি মাত্র ২৬টির কাছাকাছি। তবে সরকারি অনুদানের এই বিপুল ঘোষণার পর এই তালিকায় আরও নতুন নাম যুক্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব, জনসমাগম এবং উৎসবের ব্যাপ্তির ওপর ভিত্তি করে জেলাশাসকদের নতুন নতুন রথযাত্রা কমিটির নাম সুপারিশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অনুদানের পাশাপাশি রথযাত্রার যাত্রাপথে পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসনকে পানীয় জল, ওআরএস (ORS), প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি চিকিৎসায় সহায়তার জন্য ‘সেবা শিবির’ খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার জন্য প্রতিটি জেলাকে অতিরিক্ত ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে রথযাত্রার আয়োজনে সরকারি তরফে এমন বিপুল আর্থিক সাহায্যের নজির এর আগে কখনও মেলেনি।
তবে সব কমিটি এই অনুদান পাবে না। জেলাশাসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু নিয়মে কমিটি বাছাই করা হবে। কোন কমিটির রথ কত বড়, তার ভিত্তিতেও কমিটিগুলোকে টাকা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, জেলাশাসকদের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজ্যের চিহ্নিত রথযাত্রা কমিটিগুলোকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে প্রতি জেলায় ১ লক্ষ টাকা খরচ করে বিশেষ ‘সেবা শিবির’ তৈরি করা হবে। এই শিবিরগুলো থেকে মিলবে পানীয় জল, ওআরএস (ORS), প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা। একই ধরনের শিবির উল্টোরথের দিনও চালু রাখতে বলা হয়েছে।