Advertisement

Flash Flood Possibility: মেঘভাঙা বৃষ্টির বিপদ, দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জেলায় হড়পা বানের পরিস্থিতি?

হড়পা বান সাধারণত মেঘভাঙা বৃষ্টি, হিমবাহ বা হিমবাহ-হ্রদ ফেটে যাওয়া, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনায় তৈরি হয়। পাহাড়ের খাড়া ঢাল, নদীর অপেক্ষাকৃত কম প্রস্থ এবং নদীখাতে বড় বড় পাথর সেই জলস্রোতের শক্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।

দক্ষিণবঙ্গেও কি হতে পারে হড়পা বানদক্ষিণবঙ্গেও কি হতে পারে হড়পা বান
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 10 Sep 2026,
  • अपडेटेड 2:08 PM IST
  • পশ্চিমাঞ্চলে হড়পা বান হতে পারে না, এমনটা বলা যাবে না।
  • মেঘভাঙা বৃষ্টি বা অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হলে জলস্রোতের শক্তি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে নেপালের একাংশ। প্রতিবেদন লেখার সময় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান খুব স্বাভাবিক। কিন্তু সমতল বা মালভূমিতে কি হড়পা বান হতে পারে? নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে এমন বন্যা হতে পারে বলে মত আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার। তবে হিমালয়ের হড়পা বানের তুলনায় তার অভিঘাত আলাদা। 

হড়পা বান সাধারণত মেঘভাঙা বৃষ্টি, হিমবাহ বা হিমবাহ-হ্রদ ফেটে যাওয়া, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনায় তৈরি হয়। পাহাড়ের খাড়া ঢাল, নদীর অপেক্ষাকৃত কম প্রস্থ এবং নদীখাতে বড় বড় পাথর সেই জলস্রোতের শক্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রবল বেগে নেমে আসা জল অনেক সময় অস্বাভাবিক উচ্চতা ও ধ্বংসক্ষমতা অর্জন করে। স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে এই পরিস্থিতি নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হল হিমবাহের অনুপস্থিতি। হিমবাহ বা হিমবাহ-হ্রদ ফেটে যাওয়ার মতো ঘটনা হিমালয়ে ভয়াবহ ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। এই ধরনের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক সময় মেঘভাঙা বৃষ্টি বা কয়েক ঘণ্টার অতি ভারী বৃষ্টির তুলনায় বহুগুণ বেশি হয়। রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানান, পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে হড়পা বানের প্রধান সম্ভাব্য উৎস বরং মেঘভাঙা বৃষ্টি বা অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি। তাই হিমালয়ের মতো দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক শক্তিশালী হড়পা বানের সম্ভাবনা এখানে তুলনামূলক কম।

গোয়েঙ্কার মতে, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জলস্রোতের দূরত্ব এবং ঢাল। হিমালয়ে প্রবল জলস্রোত অনেকটা বেশি ঢাল বেয়ে নেমে আসে। পাহাড় বা সংলগ্ন মালভূমি অঞ্চলে সেই ঢাল ও প্রবাহপথ তুলনামূলক ছোট হওয়ায় হড়পা বান সাধারণত উৎসস্থলের কাছাকাছি বা উজানেই বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও পাহাড়ি জলধারার প্রবাহপথ তুলনামূলক ছোট এবং নদীখাতও অনেক ক্ষেত্রে কম প্রশস্ত। ফলে হিমালয়ের মতো দীর্ঘ দূরত্ব জুড়ে সরলরেখায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সম্ভাবনা কম। 

তবে পশ্চিমাঞ্চলে হড়পা বান হতে পারে না, এমনটা বলা যাবে না বলে মত রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার। বরং হিমালয়ের মতো ভয়াবহ ধ্বংসও ঘটতে পারে। যেমন, কোনও বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে একই সময়ে উজান বা মেঘভাঙা বৃষ্টি বা অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হলে জলস্রোতের শক্তি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে হড়পা বান ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

Advertisement

দক্ষিণবঙ্গে মেঘভাঙা বৃষ্টি

দক্ষিণবঙ্গে এখন হামেশাই মেঘভাঙা বৃষ্টি হচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি পরিসংখ্যান দেখলেই সেটা স্পষ্ট হবে। 

২০২৬

বোলপুর: ২৬০ মিমি।
বারাকপুর: ১৩০ মিমি।
দমদম: ১৬৩ মিমি।
আরামবাগ: ২০০ মিমি।

২০২৫

কলকাতা: ২৫১ মিমি।
তপসিয়া: ৩৩২ মিমি।
নাগেরবাজার: ১৩২ মিমি।

পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন জেলায় হড়পা বান হতে পারে?

দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান এবং সংলগ্ন পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশে স্বল্পস্থায়ী হড়পা বান হতে পারে। পরবর্তী সময়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, হড়পা বান এবং সাধারণ বন্যার ধ্বংসের ধরন এক নয়। 

TAGS:
Read more!
Advertisement
Advertisement