
ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়ে নিখোঁজ প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। মানস সরোবারে যাচ্ছিলেন শর্মিষ্ঠা। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে শর্মিষ্ঠার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। প্রবল উৎকণ্ঠায় এখন দিন কাটাচ্ছেন শর্মিষ্ঠা স্বামী তথা প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় এবং গোটা পরিবার।
ভয়াবহ হড়পা বানে এখন মৃত্যুমিছিল চলছে নেপালে। সেই হড়পা বানের পর থেকে কাঁচরাপাড়ার ঘটক রোডে রায় পরিবারেরও ঘুম উড়েছে। কারণ বন্যা বিধস্ত নেপালে আটকে পড়েছেন মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশুর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। প্রসঙ্গত, নেপালে আটকে পড়েছেন কলকাতারই ৩২ জন পর্যটক। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন শর্মিষ্ঠাও। মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, শর্মিষ্ঠার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না শর্মিষ্ঠাকে
স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন শুভ্রাংশু রায়। পরিবার সূত্রে খবর, গত ২১ অগাস্ট হাওড়া থেকে একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে কৈলাস-মানস সরোবর ও নেপাল সফরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। গন্তব্যে পৌঁছনোর পর থেকে স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত কথা হচ্ছিল তাঁর। মঙ্গলবার রাতেও শুভ্রাংশুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে নেপাল-চিন সীমান্তসংলগ্ন ভোটকোশী নদীতে জলোচ্ছ্বাস শুরু হওয়ার পর থেকেই বদলে যায় পরিস্থিতি। খবর পাওয়া মাত্রই স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন শুভ্রাংশু, কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় কোনও সংযোগ করা সম্ভব হয়নি। শুভ্রাংশু জানিয়েছেন, স্ত্রীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনও কিছুই জানতে পারেননি তাঁরা। শুভ্রাংশু জানান, মানস সরোবর ছিল শর্মিষ্ঠার বহুদিনের স্বপ্নের জায়গা। বর্তমানে শর্মিষ্ঠার খোঁজে নেপাল দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন শুভ্রাংশু। পরিবারের ব্যবসার দায়িত্বও সামলাতেন শর্মিষ্ঠা। তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। বাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে তীব্র উৎকণ্ঠায় এখন দিন কাটাচ্ছেন স্বামী শুভ্রাংশু রায়।
শুভ্রাংশুর রায় কী বলছেন?
জানা গিয়েছে, কলকাতার একটি খ্যাতনামা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে শর্মিষ্ঠা সহ মোট ৩২ জনের একটি পর্যটক দল কৈলাশ মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। ট্রাভেল সংস্থা সূত্রে খবর, পর্যটকদের পাশাপাশি তাদের কয়েকজন কর্মীও বর্তমানে নেপালে আটকে রয়েছেন। শুভ্রাংশু রায় জানান, 'শেষবার যখন কথা হয়, তখন ওদের ট্যুর সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু তারপর থেকেই আর কোনোভাবে ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।' শুভ্রাংশু আরও বলেন, 'স্ত্রীর খোঁজে আমরা ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। পাশাপাশি সাহায্য চাওয়া হয়েছে নবান্নের কাছ থেকেও। তবে এখনো পর্যন্ত ওঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।' হড়পা বান যেখানে হয়েছিল, তার থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ছিলেন শুভ্রাংশুর পত্নী বলে খবর।