
এবারের দুর্গাপুজোয় ঘটে গিয়েছে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের প্যান্ডেলে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ গিয়েছে ১৯ জনের। আর সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জনে আঁটসাঁট নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। এবার ক্রেনের বদলে কুলিদের দ্বারা প্রতিমা জলে ভাসানো হয়েছে প্রতিটি ঘাটে। আর সে কারণেই নিরঞ্জনে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ একাধিক পুজো কমিটির। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ লাইন পড়ছে ঘাটগুলিতে। রাতে নিয়ে যাওয়া প্রতিমা নিরঞ্জন হচ্ছে ৪/৫ ঘণ্টা পর সকালে।
বিসর্জন ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আগেভাগেই তৎপরতা নিয়েছিল প্রশাসন। প্রতিমা নিরঞ্জন শুরুর আগে কলকাতার বাজে কদমতলা ঘাটে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিসর্জনের সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রতিমা নিরঞ্জনের নিয়ম মেনে চলা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখা হয়।
প্রতিমার পবিত্রতা বজায় রাখা এবং নিরাপদে নিরঞ্জন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেই এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্রেন ব্যবহার নিয়ে কিছু অভিযোগ ওঠায় এবার একাধিক ট্রলির ব্যবস্থা রাখা হয়। রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও (NDRF) যুক্ত করা হয়। বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ, পুলিশ, কলকাতা পুরসভা এবং পুজো কমিটিগুলিকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিসর্জন দেখতে বহু মানুষ নদীর ধারে ভিড় করেন। প্রায় ২০০টি দেশি নৌকা বা ডিঙি রয়েছে সে কারণে। লাইফ জ্যাকেট এবং নৌকায় ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখার মতো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভার উদ্যান, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আলো, নির্মাণ ও স্বাস্থ্য বিভাগ, সেচ দফতর, বিপর্যয় মোকাবিলা ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় রাখা হয়েছে। ৭টি মোটরচালিত নৌকা, লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া এবং ডুবুরিও প্রস্তুত।
তবে একাধিক পুজো কমিটির অভিযোগ, ক্রেনের বদলে কুলিদের মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার কারণে প্রতিটি ঘাটেই অত্যধিক বিলম্ব হচ্ছে। কুলিদের দ্বারা বড় বড় প্রতিমা টেনে নিয়ে জলে ভাসান দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে অনেকটাই বেশি। বুধবার রাতে বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া প্রতিমা ভাসান হয়েছে বৃহস্পতিবার সকালে। অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘক্ষণ।
ছোট এবং বড় প্রতিমার জন্য দু'টি পৃথক লাইন থাকলে নিরঞ্জন প্রক্রিয়া দ্রুত এগনো যেত বলে মনে করছেন পুজো কমিটির একাধিক কর্তারা। সেক্ষেত্রে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন তারা। এ ছাড়া একাধিক নামী পুজো কমিটিকে আগে নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করে দেওয়া নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় এবং বিলম্ব হয়েছে বাজে কদমতলা ঘাটে, অভিযোগ এমনটাই। এছাড়াও জাজেস ঘাট, দই ঘাট, নিমতলা ঘাট, আহিরিটোলা ঘাট, বিচালিঘাট, শোভাবাজার ঘাট, রতনবাবু ঘাট, সর্বমঙ্গলা ঘাট এবং কুমোরটুলিতেও চলছে বিসর্জন।
তবে প্রতিমা নিরঞ্জনকারীদের ছাড়া কাউকে ঘাটের কাছে দেওয়া হচ্ছে না।
বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও বিসর্জন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিশেষ প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। আগামী ২৪ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত শহরের ২৭টি ঘাটে দিনরাত বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই কাজে পুরসভার বিভিন্ন বিভাগ থেকে মোট ৬১১ জন কর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে।