
এক ক্লাস, এক শিক্ষক। আর সেই ক্লাসের সমস্ত পড়ুয়ার পড়াশোনা এবং অগ্রগতির দায়িত্ব সেই একজন শিক্ষকেরই। এবার এই নীতিই আনতে চলেছে শুভেন্দু সরকার। বিষয়টি ঠিক কী? কী ভাবে হবে পঠনপাঠন?
শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান, অ্যাড হক কমিটির সদস্য, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদগুলির চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। নিয়োগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়া সেখানে। প্রাথমিক স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার অধিকার আইন মেনে প্রাথমিকে ৩০ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক রাখাই নিয়ম। যদিও শিক্ষকের অভাবে সব সময়ে এই অনুপাত বজায় রাখা যেত না। এ বার প্রাইমারিতে প্রথম থেকে প্রতিটি শ্রেণিতে ক্লাস পিছু একজন শিক্ষক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই নয়া নিয়ম চালু হবে রাজ্যে। প্রতি ক্লাস পিছু একজন করে শিক্ষক থাকবেন। সেই ক্লাসের সমস্ত পড়ুয়াদের দায়িত্ব তাঁর। কোনও পড়ুয়া পিছিয়ে পড়লে তার কারণ জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককেই। এমনকী বছর শেষে তাঁর ইনক্রিমেন্টও নির্ভর করতে এই দায়িত্ব পালনের উপর।
কোনও ক্লাসে ২০টি পড়ুয়ার মধ্যে যদি ১৫ জনের সার্বিক উন্নতি না হয়, তা হলে দায় বর্তাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরই উপর। দীপক বর্মন বলেন, 'শিক্ষকরা যে স্তরের পরীক্ষা দিয়ে নিযুক্ত হন, তাতে প্রাথমিকের শিশুদের সব বিষয়ই পড়াতে পারেন। ফলে কেন তাঁর বেতন বাড়বে সেটা ওই শিক্ষকের কাছেই জানতে চাওয়া হবে। পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের উন্নতির দায়িত্বও নিতে হবে স্কুলের ক্লাস পিছু শিক্ষকদেরই।'
শিক্ষামন্ত্রীর আরও বক্তব্য, 'কাজের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ইগো সরিয়ে রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একইসঙ্গে ছবি বা প্রচারের মোহ থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার মানোন্নয়নে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের মুখপাত্র না হয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব সমস্যাগুলির সমাধানে মনোযোগ দিন।'
বেসরকারি বিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রেও শিক্ষক নিয়োগ, স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা এবং পড়ুয়াদের শিক্ষার মান নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে।