
Park Circus protest: পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং এলাকায় বিক্ষোভ। বুলডোজ়ার অভিযান এবং রাস্তার উপর নমাজ পাঠ নিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়েছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েক জন পুলিশকর্মী।বিক্ষোভকারীদের একাংশও আহত।
রবিবার দুপুর থেকেই পার্ক সার্কাস মোড়ে জমায়েত শুরু হয়। অভিযোগ, অবৈধ নির্মাণ তুলতে বুলডোজ়ার অভিযান এবং রাস্তার উপর ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন স্থানীয়দের একাংশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং এলাকায় অবরোধ তৈরি হয়। এর জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে খবর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই সময় পুলিশের দিকে ইট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। তার পরেই লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং CRPF জওয়ানদের। এলাকায় র্যাফও নামানো হয়েছে বলে খবর।
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সম্প্রতি ঘোষণা করেন, জনসাধারণের ব্যবহারের রাস্তা আটকে কোনও ধর্মীয় জমায়েত, নমাজ পাঠ করা যাবে না। একই সঙ্গে ধর্মীয় কারণে মাইক, লাউডস্পিকার বাজানোতেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু এলাকায় প্রতিবাদ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ।
পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভের সময় স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতেই এই পদক্ষেপ। পুলিশের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।
ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও, যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পরিস্থিতি যাতে আরও অশান্ত না হয়, সে জন্য গোটা এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য, কয়েক দিন আগেই রাজাবাজার (Rajabazar) এলাকাতেও একই ধরনের উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে পুলিশ এবং স্থানীয়দের মধ্যে বচসা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই কলকাতার একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বুলডোজ়ার অভিযান এবং ধর্মীয় জমায়েত ঘিরে সরকারের কড়া অবস্থান আগামিদিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। অন্য দিকে, প্রশাসনের দাবি, বেআইনি দখলদারি এবং রাস্তা অবরোধের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।