Advertisement

বিয়ে এড়াতেই কেতনকে খুনের ছক, আরও ৩ বছর সময় চাইছিলেন সিয়া, দাবি পুলিশের

পুলিশের দাবি, জেরায় সিয়া গোয়েল জানিয়েছেন তিনি কেতন আগরওয়ালকে বিয়ে করতে চাননি। তাঁর ধারণা ছিল, কেতনকে সরিয়ে দেওয়া গেলে অন্তত আরও তিন বছর বিয়ের চাপ থেকে মুক্ত থাকা যাবে। তদন্তকারীদের আরও সন্দেহ, সিয়ার প্রেমিক ও সহ-অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীও সিয়াকে বিয়ে করার আগে আরও ২-৩ বছর সময় চেয়েছিলেন।

Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 27 Jun 2026,
  • अपडेटेड 6:49 PM IST
  • পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে প্রতিদিনই সামনে আসছে নতুন তথ্য।
  • তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে প্রতিশোধ, সম্পত্তি বা পারিবারিক শত্রুতা নয়, বরং বিয়ে এড়ানোর উদ্দেশ্যই ছিল মূল কারণ।

পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে প্রতিদিনই সামনে আসছে নতুন তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে প্রতিশোধ, সম্পত্তি বা পারিবারিক শত্রুতা নয়, বরং বিয়ে এড়ানোর উদ্দেশ্যই ছিল মূল কারণ।

পুলিশের দাবি, জেরায় সিয়া গোয়েল জানিয়েছেন তিনি কেতন আগরওয়ালকে বিয়ে করতে চাননি। তাঁর ধারণা ছিল, কেতনকে সরিয়ে দেওয়া গেলে অন্তত আরও তিন বছর বিয়ের চাপ থেকে মুক্ত থাকা যাবে। তদন্তকারীদের আরও সন্দেহ, সিয়ার প্রেমিক ও সহ-অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীও সিয়াকে বিয়ে করার আগে আরও ২-৩ বছর সময় চেয়েছিলেন।

তদন্তকারী অফিসারদের মতে, বিয়ে ভেঙে সামাজিক সমালোচনার মুখে পড়ার পরিবর্তে অভিযুক্তরা অনেক বেশি ভয়ঙ্কর পথ বেছে নিয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই কেতনকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বাগদানের আগেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক?
তদন্তে উঠে এসেছে, কেতনের সঙ্গে সিয়ার বাগদানের আগেই চেতনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিয়া ও চেতন কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে উদয়পুরে বেড়াতে যান এবং সেখানে পাঁচ দিন কাটান। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই সফরেই তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

চেতন অবশ্য সিয়ার পরিবারের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিলেন না। সিয়ার দাদা সাহিল গোয়েলের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন তিনি। সেই সূত্রেই সিয়ার সঙ্গে প্রথম পরিচয়, যা পরে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয় বলে পুলিশের অনুমান।

২,০০৪টি ফোনকল ঘিরে বাড়ছে সন্দেহ
তদন্তে কল ডিটেল রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে। পুলিশের দাবি, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সিয়া ও চেতনের মধ্যে মোট ২,০০৪টি ফোনকল হয়েছে। দুই জনের কথোপকথনের মোট সময় প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা। তদন্তকারীদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক ফোনালাপ তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার পাশাপাশি সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের দিকেও ইঙ্গিত করছে।

খুনের আগের দিন ক্যাফেতে বৈঠক
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কেতনের মৃত্যুর ঠিক একদিন আগে, ১৭ জুন পুনের লুল্লানগরের একটি ক্যাফেতে প্রায় এক ঘণ্টা একান্তে দেখা করেন সিয়া ও চেতন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ওই বৈঠকেই কি হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা হয়েছিল।

Advertisement

মুছে ফেলা চ্যাটে মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত দু'জনই মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ইনস্টাগ্রাম মেসেজ-সহ একাধিক কথোপকথন মুছে ফেলেছেন। এমনকি রিসাইকেল বিনও খালি করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে কোনও তথ্য উদ্ধার করা না যায়।

তবে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা মুছে ফেলা তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তদন্তকারীদের আশা, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য থেকেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ঘটনাক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।

সিয়ার দাদাকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ
তদন্তের অংশ হিসেবে শুক্রবার সিয়ার দাদা সাহিল গোয়েলকে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চেতন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়, সিয়া ও চেতনের সম্পর্ক এবং মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিয়ার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। 


 

Read more!
Advertisement
Advertisement