
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ‘মেসি অনুষ্ঠান’ ঘিরে বিতর্কের তদন্তে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ফের নোটিস পাঠাল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। আগের দু’টি নোটিসে সাড়া না দেওয়ার পর এবার তৃতীয়বারের জন্য তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে উপস্থিত হতে হবে তাঁকে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুন কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অরূপ বিশ্বাসকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর বা দমনমূলক পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ। তবে এই সুরক্ষার বিনিময়ে একাধিক শর্তও মানতে হবে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অরূপ বিশ্বাসকে অবিলম্বে তাঁর পাসপোর্ট তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে জমা রাখতে হবে। পাশাপাশি, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি নিজের থানা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। ফলে তাঁর চলাফেরার উপরও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
আগামী ৪ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি। ততদিন তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, পুলিশ যদি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ডাকে, তাহলে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই এবার নতুন নোটিস পাঠিয়েছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।
এছাড়া তদন্তকারী আধিকারিকদের আদালতে জানাতে হবে, মেসি-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে এবং অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে অন্য কোনও মামলা রয়েছে কি না।
প্রসঙ্গত, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম ও ব্যাপক অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। এই মামলায় অরূপ বিশ্বাসের নাম জড়ানোর পর থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে নিজের সম্ভাব্য গ্রেফতারি এড়াতেই অরূপ বিশ্বাস হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আপাতত গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে স্বস্তি মিললেও, আদালতের একাধিক শর্তের আওতায় থেকেই তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আইনি সুরক্ষা পেলেও কার্যত কড়া নজরদারির মধ্যেই রয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী।