
ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনায় ফের তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে গেল পুলিশ। রবিবার সকালে শেক্সপিয়র সরণি থানার আধিকারিকেরা নোটিস নিয়ে তাঁর বাড়িতে পৌঁছন। সঙ্গে ছিলেন কালীঘাট থানার পুলিশকর্মীরাও। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার অভিষেককে তলব করা হয়েছে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় নোটিস দিতে গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছিল পুলিশকে। রবিবার অবশ্য নোটিস গ্রহণ করা হয়েছে বলে খবর।
গত ২৭ অগাস্ট ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের বাইরে একটি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই বিলবোর্ড খুলতে গেলে অভিষেকের অনুগামীদের সঙ্গে তাঁদের বচসা বাধে। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির অভিযোগও ওঠে। ওই ঘটনায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়। সেই মামলাগুলির তদন্ত করছে পুলিশ।
অভিযোগ, অভিষেকের দফতরের বাইরে তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক-সহ লাগানো বিলবোর্ডটি বেআইনি ছিল। সেটি সরাতে গিয়ে পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকদের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। বিলবোর্ড সরানোর পর সেখানে একই নাম ও প্রতীক-সহ ব্যানার টাঙানো হয়েছিল বলেও জানা যায়।
এই ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি এফআইআরের মধ্যে একটির তদন্তে আগেই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এ বার ফের ওই ঘটনার তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে নোটিস দিতে গিয়েছিলেন শেক্সপিয়র সরণি থানার আধিকারিকেরা। কিন্তু বাড়ি থেকে জানানো হয়, নোটিস গ্রহণ করার মতো কেউ নেই। অভিষেকও শহরের বাইরে ছিলেন। ফলে সে দিন নোটিস না দিয়েই ফিরে যেতে হয় পুলিশকে।
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছিলেন অভিষেক। শনিবার তিনি কলকাতায় ফেরেন। তার পর রবিবার সকালে ফের তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। কিছু ক্ষণ অপেক্ষার পর নোটিস গ্রহণ করা হয়।
ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই অভিষেক-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা ও কর্মীর নাম উঠে এসেছে। পুলিশ সূত্রে সোমবার তলবের খবর সামনে আসায়, তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নজর রয়েছে।