
কলকাতার চোরাবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনায় প্রাথমিক ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, বুকে তীব্র চাপ এবং Asphyxiation বা শ্বাসরোধের কারণেই অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
চোরবাগান পুজো মণ্ডপের এই মর্মান্তিক ঘটনায় কীভাবে একের পর এক মানুষের মৃত্যু হল, তার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে প্রাথমিক অটোপ্সি রিপোর্টে। আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
যেই তথ্যগুলি সামনে এসেছে
মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ: চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বুকে অতিরিক্ত চাপের কারণে Traumatic Asphyxia বা আঘাতজনিত শ্বাসরোধ মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এই পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে তীব্র চাপ পড়ায় স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া যায় না। তার ফলে মৃত্যু হয়।
Severe Thoracic Pressure: ভিড়ের চাপে যাঁরা পড়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের বুকে প্রবল চাপ তৈরি হয়। এর ফলে ফুসফুস স্বাভাবিকভাবে প্রসারিত হতে পারেনি। সেটাও মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
Asphyxiation and Suffocation: দীর্ঘক্ষণ ধরে শরীরের উপর বিপুল চাপ ছিল। এর ফলে বাতাস চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। এই কারণে অধিকাংশের ক্ষেত্রে শ্বাস নিতে গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়। Suffocation বা দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
Internal Trauma: একাধিক মৃতদেহে শরীরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। যা থেকে বোঝা যাচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় শরীরে প্রবল চাপ ও আঘাত লেগেছিল।
Haemorrhage and Visceral Rupture: প্রবল শারীরিক চাপের জন্য কয়েকটি ক্ষেত্রে Internal Bleeding বা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে। এমনকী Organ Rupture বা অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ফেটে যাওয়ার চিহ্ন মিলেছে। ফুসফুস (Lungs), পাকস্থলী (Stomach), যকৃৎ (Liver), অগ্ন্যাশয় (Pancreas) এবং মাথায় নির্দিষ্ট ধরনের ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথমিক রিপোর্ট: কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের এই রিপোর্টগুলি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের। চূড়ান্ত ও বিস্তারিত পোস্টমর্টের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরই মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে।
বড়সড় ব্যবস্থা
চোরবাগানে মৃৃত্যুর পর একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যেই ভিআইপি লাইন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভিড় নিয়ন্ত্রণেও করা হয়েছে প্ল্যানিং। এছাড়া শহরের পাঁচটি বড় দুর্গাপুজো মণ্ডপে চিকিৎসক মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপদের পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেই এহেন উদ্যোগ। ইতিমধ্যেই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিকের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।