
উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়ায় এক নৃশংস ঘটনার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল। ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃতার নাম পুজা মণ্ডল (২৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধেয় লেনিন নগর এলাকার নিজের বাড়ি থেকেই পুজার দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি প্লাস্টিকে মোড়া অবস্থায় খাটের নীচে লুকিয়ে রাখা ছিল। ঘটনার পরই পুলিশ স্বামী ঋষি হরিচাঁদ, তাঁর মা এবং পরিবারের আরও এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। ইতিমধ্যেই খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই টাকার জন্য পুজাকে চাপ দিত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সেই দাবি পূরণে অস্বীকার করাতেই এই খুন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, কাপড় দিয়ে গলা টিপে তাঁকে হত্যা করা হয় এবং পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহ লুকিয়ে রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’বছর আগে পূজা ও ঋষির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আর্থিক দাবিকে কেন্দ্র করে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। গর্ভবতী হওয়ার পরও সেই চাপ কমেনি বলে দাবি পরিবারের। বুধবার সকালে টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়, যার জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
সারাদিন পুজার সঙ্গে যোগাযোগ না পেয়ে তাঁর পরিবার সন্ধেয় শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছয়। সেখানে তাঁকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে খাটের নীচ থেকে দেহ উদ্ধার করে।
নির্যাতিতার মামা জানান, অভিযুক্ত স্বামী নিয়মিত টাকা দাবি করত এবং কোনও স্থায়ী কাজও করত না। প্রথমে পরিবার এই বিয়ে মেনে না নিলেও, পরে মেয়ের গর্ভাবস্থার কথা জেনে সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।