
আমজনতার পকেটে ফের ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা। এবার শহর কলকাতায় বাড়তে পারে বেসরকারি বাসভাড়া। মঙ্গলবারই বাসের ভাড়াবৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়েছেন বাস অপারেটর ও মালিকরা। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে যাওয়া এবং যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার জেরেই এই ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের কাছে এককালীন ত্রাণ প্যাকেজও চাইছেন মালিকরা।
জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ২০১৮ সালের পর থেকে বাসভাড়ায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। অথচ গত আট বছরে ডিজেলের দাম ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান ভাড়া কাঠামোয় বেসরকারি বাস চালানো আর আর্থিকভাবে সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি তাঁর দাবি, সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত চালু হওয়ার পর থেকে বেসরকারি বাসে যাত্রী সংখ্যা আরও কমেছে। ফলে আয় কম হওয়ায় আর্থিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাস ভাড়া কত বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে?
কলকাতায় বর্তমানে বেসরকারি বাসে সর্বনিম্ন বাসভাড়া রয়েছে ৮ টাকা। এই বাসভাড়া বৃদ্ধি করে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা করার দাবি করেছেন তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, "বর্তমানে চালু থাকা বাসভাড়া লাগু করা হয়েছিল ২০১৮ সালে। গত ৮ বছরে ভাড়ায় কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। ২০১৮ সালের ভাড়া নিয়ে আমরা ২০২৬ সালে বাঁচব কী করে? এখন ফের ভাড় সংশোধন করার সময় এসেছে। একমাত্র তবেই সমস্যার কিছুটা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।"
এককালীন প্যাকেজের দাবি
ভাড়াবৃদ্ধির দাবি ছাড়াও সরকারের কাছে বাহন-সংক্রান্ত বকেয়া জরিমানা এককালীন মুকুব করার জন্য দাবিও করেছে বাস অপারেটররা। ভাড়াবৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের দ্বারস্থও হয়েছেন বাস মালিক ও অপারেটররা।
ক্রমাগত জ্বালানি খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বৃদ্ধির জেরে কলকাতার একাধিক রুটের বাস মালিকদের এখন হাঁসফাঁস অবস্থা। সূত্রের দাবি, খরচের চাপে অনেক বেসরকারি বাস মালিক ইতিমধ্যেই কিছু রুটে বাসের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে কলকাতার রাস্তায় প্রায় ৩৫০০টি বেসরকারি বাস লাচল করছে। করোনা মহামারির আগে যেখানে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০০০। ফলে গত কয়েক বছরে শহরে বেসরকারি বাসের সংখ্যা যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে তা বলাই বাহুল্য।