
অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসরা রইলেন। অথচ ১৯৯৮ সালে যাঁর নেতৃত্বে দল তৈরি হয়েছিল, তাঁকেই বাদ দিয়ে দেওয়া হল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নব তৃণমূল কংগ্রেসে ঠাঁই হল না খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই। এমনকী তাঁর ছবিও ব্যবহার করা হল না।
পাঁচলার বিধায়ক দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নেত্রী
বস্তুত, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা যখন বিদ্রোহীদের তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করছিলেন,তখন তিনি দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথপ্রদর্শক বা মেন্টর হিসেবে থাকতে পারেন। এরপর ওই শিবিরেরই পাঁচলার বিধায়ক গুলশান মল্লিক দাবি করেন, পথপ্রদর্শক নন, তিনিই নেত্রী। বলেছিলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের নেত্রী। তাঁকে শুধু পথপ্রদর্শক বলা হবে, এটা আমরা কোনওভাবেই মানতে পারি না। যদি কেউ বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল পথপ্রদর্শক হবেন, আমরা তা কখনওই মেনে নেব না। তিনি আমাদের নেত্রী, এই অবস্থানেই আমরা ঐক্যবদ্ধ।'
মমতা ও অভিষেকে নাম-নিশানও দেখা গেল না
এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানেই খেলা ঘুরে গেল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো দূর, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও নাম-নিশান দেখা গেল না ঋতব্রতদের মঞ্চে। এই বিষয়ে নব্য তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন সাহা bangla.aajtak.in-কে জানালেন, বিদ্রোহীদের তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বা কোনও পদ না থাকলেও, পথপ্রদর্শক হিসেবে মমতাকেই চাইছেন তাঁরা। সন্দীপনের কথায়, 'আমরা তো এখনও বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথপ্রদর্শক হিসেবে থাকুন।'
মমতার তৈরি দল থেকে মমতাকেই কীভাবে অপসারণ?
কিন্তু যাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হয়েছিল, তাঁকেই কীভাবে অপসারণ করে দেওয়া হল? এমনকী সোমবার যে কমিটি তৈরি করা হল ও মিটিং হল, সেই মিটিংয়ের ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিও ছিল না। সন্দীপনের বক্তব্য, 'যাঁরা দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, দেশের জনক, যাঁরা দেশকে দিশা দেখিয়েছেন, তাঁদের ছবিই তো ছিল। সেই সব ছবিই তো থাকবে। মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাবা সাহেব আম্বেডকর, কাজি নজরুল ইসলাম, এঁদের ছবি ছিল।'
কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে সন্দীপনের সাফ কথা, 'হ্যাঁ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই দল তৈরি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু দলের জন্মলগ্ন থেকে যে সব নেতারা ছিলেন,তাঁরাও তো আমাদের সঙ্গে রয়েছেন, যেমন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, রথীন ঘোষ।'
অরূপ, ফিরহাদরাই বাদ দিয়ে দিলেন মমতাকে
সোমবার ৩০ জনের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছে ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল। সেই তৃণমূলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে অরূপ রায়কে। সহ সভাপতি হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, ফিরহাদ ববি ও অরূপ বিশ্বাস ছিলেন মমতার প্রধান দুই রাজনৈতিক সঙ্গী। এদিন ওঁরা দু’জনই সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় মমতাকেই কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দিলেন।
চেয়ারম্যানের পদ পেয়ে অরূপ রায় বললেন, 'অনেক বড় দায়িত্ব। সারা বাংলাজুড়ে যে পরিস্থিতি চলছে, সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে আমাদের নতুন করে কর্মীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। তাঁদের একত্রিত করতে হবে। সেই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সকলে মিলে, সব কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। যেভাবে আমরা ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করেছি, বাংলার মানুষের স্বার্থে, সেই ভাবেই লড়াই করতে হবে আমাদের। কর্মীরা যাতে মাথা উঁচু করে চলতে পারেন, তাঁদের অধিকার নিয়ে, তাঁদের সম্মান নিয়ে, সে দিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের চলতে হবে। এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।'