
একদিকে যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নানা ইস্যুতে সরাসরি বামেদের আক্রমণ করছেন, অন্যদিকে, তখন উপনির্বাচন ঘিরে বামফ্রন্টের ঐক্যেই ফাটল প্রকাশ্যে এল। রেজিনগর বিধানসভা আসনে CPIM প্রার্থী ঘোষণা পর ফের প্রার্থী দিল RSP।
এক আসনে ২ বাম প্রার্থী
উল্লেখ্য, গত শনিবার রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে CPIM। আইনজীবী সৈয়দ আসাদ আলি লড়বেন এই আসনে। তবে সে প্রার্থীকে মানতে নারাজ বামেদের শরিক দল RSP। পাল্টা প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে তারা। টিকিট দেওয়া হয়েছে বিকাশচন্দ্র মিশ্রকে।
কেন পাল্টা প্রার্থীর ঘোষণা RSP-র?
শরিক এই দলের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই রেজিনগর আসন থেকে লড়ছে RSP। ২০২১ সালের কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের কারণে এই আসন ছাড়তে হয়েছিল তাদের। সে সময়েও নারাজ ছিল RSP নেতৃত্ব। পরবর্তীতে ছাব্বিশের নির্বাচনেও ওয়েস্ট বেঙ্গল সোশালিস্ট পার্টির জন্য এই আসন ছেড়ে দিয়েছিল তারা। কিন্তু এবার আর আপোস করতে রাজি নয় এই দল।
সূত্রের খবর, দফায় দফায় আলোচনার পরেও প্রার্থী দেওয়া নিয়ে জটিলতা কাটেনি বামফ্রন্টের অন্দরে। একাধিকবার CPIM-এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিতেও শোনা গিয়েছে RSP-র রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়কে। তাঁদের ক্ষোভ, গত জুন মাসেই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে এই মর্মে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। রেজিনগরে RSP লড়তে ইচ্ছুক এ কথা স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছিল। চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করা হলেও এই নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি ফ্রন্টের অন্দরে। এরপর গত বৃহস্পতিবার আলিমুদ্দিনে এই মর্মে দুই দলের নেতৃত্বের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলেও খবর। যদিও ঐক্যমতে পৌঁছেত ব্যর্থ হয় CPIM ও RSP।
আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর, গত শনিবার ফের একবার CPIM ও RSP-র মধ্যে বৈঠক হয়। কিন্তু সেদিনই বিকেলে রেজিনগরের প্রার্থী ঘোষণা করে কাস্তে-হাতুড়ি শিবির। এতেই ক্ষোভ চরমে ওঠে। এই ঘোষণাকে 'অনৈতিক' বলে দাবি করে RSP।
ফলত রেজিনগর থেকে পাল্টা প্রার্থী ঘোষণা করে RSP-র রাজ্য সম্পাদক সাফ জানিয়ে দেন, CPIM একতরফা প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাঁরা। একইসঙ্গে দলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, রেজিনগরে লড়াই করার সিদ্ধান্ত থেকে কোনওমতেই পিছোবে না RSP। কোদাল-বেলচা প্রতীকের প্রার্থী বিকাশচন্দ্র মিশ্র দাদপুরের ভূমিপুত্র, রেজিনগর লোকাল কমিটির সম্পাদক ও জেলা কমিটির সদস্য। তিনি কোনও প্যারাসুট প্রার্থী নয়, মাটির লোক। এ কথাও জানানো হয়। যদিও এই শরিকি দ্বন্দ্ব নিয়ে CPIM মুখে কুলুপ এঁটেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে রেজিনগর কেন্দ্রটি তৈরি হয় পুনর্বিন্যাসের পর। প্রথম দু'বার (২০১১, ২০১৩) উপনির্বাচনে সেখানে লড়েছিলেন RSP-র সিরাজুল ইসলাম মণ্ডল। ২০১৬, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের কারণে আসনটি ছাড়তে হয় তাদের। ছাব্বিশের বামফ্রন্টের সহযোগী দলের জন্য এই আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি RSP। ফলে এবার কোনওমতেই আপোস করতে রাজি ছিল না তারা।
এদিকে, তথ্য বলছে, CPIM-এর প্রার্থী তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন একটা সময়ে। তারপর গিয়েছিলেন কংগ্রেস। সেখানে থেকে ফের দলবদল করে ফেরেন CPIM-এ। দলবদলকারী কাউকে কেন বামফ্রন্টের মুখ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আপত্তি তুলেছে RSP।
বাম ভোটের কাটাকুটিতে ফায়দা কার?
রেজিনগরে বামফ্রন্টের কোনও শরিক দল প্রার্থী প্রত্যাহার না করলে বামেদের ভোট কাটাকুটি হবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ফলত হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া আসনে দ্বিতীয় স্থানের লড়াইটা কিছুটা সোজা হবে মমতাপন্থী তৃণমূল ও BJP-র কাছে। বামেদের গৃহযুদ্ধের কারণে ভোটব্যাঙ্কে আরও ধস নামার আশঙ্কা । আবার প্রথম থেকেই এই কেন্দ্রে অ্যাডভান্টেজের জায়গায় রয়েছেন হুমায়ুন পুত্র।