
৩১ বছর বয়সী এক পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ভয়ঙ্কর ঘটনা। সেই অপরাধ নড়িয়ে দিয়েছিল বাংলা তথা গোটা বিশ্বকে। তারপর লিফট ছিঁড়ে রোগীর পরিবারের একজনের মৃত্যু। আর এবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভিতরে বসে মদ্যপান। বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়তে চাইছে না আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের।
ইতিমধ্যেই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে রাজ্য সরকারের এই হাসপাতালের এক গ্রুপ ডি কর্মী জরুরি বিভাগের মধ্যে বসেই খাবার এবং মদ খাচ্ছেন। আর সেই ভিডিও নিয়েই আবার নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
যতদূর খবর, ওই ভিডিওতে উপস্থিত ব্যক্তির নাম রঞ্জিত গোসাঁই। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজার ঘনিষ্ঠ। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, তিনি মন থেকে একজন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী।
ওই ভিডিওতে গোসাঁইকে বলতে শোনা যায়, 'ম্যাডাম (শশী পাঁজা) আমাকে খুব গুরুত্ব দেন। আমি মন থেকে তৃণমূলের কর্মী।'
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক ছড়িয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ হাসপাতাল চত্বরে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোসাঁই। তাঁর দাবি, ভিডিওটি পুরনো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এখন সেটি ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তাঁর কাজ ছিল গরিব রোগীদের ভর্তি সংক্রান্ত সমস্যায় সাহায্য করা। এই কর্মী আরও বলেন, 'কে বা কারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি আপলোড করেছে বা কী উদ্দেশ্যে করেছে, তা তিনি জানেন না।'
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা জানায়, ভিডিওটির বিষয়ে তারা অবগত। ইতিমধ্যেই ওই কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি আর কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তও শুরু হয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে প্রায় ২ বছর ধরেই বারবার খবরে উঠে এসেছে আরজি কর। এই বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনা সামনে এসেছে। চলছে তদন্ত। তারপর আবার এই নতুন বিতর্ক। এখন দেখা যাক তদন্ত ঠিক কোন দিকে যায়।