
পানিহাটি থেকে বিরাট জয় পেয়েছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের নির্যাতিতার মা এবং বিজেপি নেত্রী রত্না দেবনাথ। নিয়েছেন শপথ। তারপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েই তিনি জানালেন, এই দীর্ঘ লড়াইতে মেয়ে তাঁর সঙ্গেই রয়েছে। মেয়ে কখনওই ছেড়ে যায়নি। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, 'উনি (মমতা) চাইলে আদালতে যেতেই পারেন।'
তিনি বলেন, 'আমি গতকাল শপথ নিয়েছি। আজ (বৃহস্পতিবার) কিছু নথি জমা দিতে হয়েছিল। সেই কারণেই এখানে এসেছি। সব ঠিক আছে। আমি মনে করি না যে অভয়া আমার সঙ্গে নেই। ও সবসময়ই এই লড়াইয়ে আমার সঙ্গে ছিল। ওকে ছাড়া আমি কিছুই করতে পারি না। এই লড়াইতেও সে আমার সঙ্গেই আছে।'
এই সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। তবে সেই বিষয়ে কিছুই বলতে চাননি রত্না। তাঁর সোজা কথা, 'আমি তাঁকে নিয়ে কিছু বলব না। আমি তাঁকে নিয়ে কিছু বলতে চাই না। উনি চাইলে আদালতে যেতে পারেন।' এর বেশি কোনও শব্দ তিনি মমতাকে নিয়ে খরচ করেননি।
মাথায় রাখতে হবে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিরাট পরাজয় হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। তারপর জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি মমতাকে। তবে বৃহস্পতিবার একবারে উকিলের উর্দি গায়ে তিনি গিয়েছিলেন কলকাতা হাই কোর্ট।
বৃহস্পতিবার সকালে আইনজীবীর বেশে হাইকোর্ট চত্বরে পৌঁছে যান তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সওয়াল করেন মমতা। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। মমতার সওয়াল ছিল, 'বাংলা বুলডোজার চালানোর রাজ্য নয়।' যদিও সেখান থেকে বেরনোর সময় একাংশের আইনজীবীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় মমতাকে। তাঁকে ঘিরে দেওয়া হয় 'চোর চোর স্লোগান'।
আর মমতার এই আইনজীবী অবতার নিয়ে এবার নতুন করে সমস্যা শুরু হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হাইকোর্টে সওয়াল করতেই পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে তাঁর এনরোলমেন্ট ও প্র্যাকটিস স্ট্যাটাস জানতে চেয়েছে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। দুই দিনের মধ্যে নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আসলে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর পোশাকে আসেন মমতা। তাঁর গলায় আইনজীবীদের সাদা ব্যান্ডও ছিল। এরপরেই বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এনরোলমেন্ট, প্র্যাকটিস, সাসপেনশন (যদি থাকে) এবং প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে তথ্য চেয়েছে। আর সেই নথি জমা দিতে হবে দুই দিনের মধ্যেই।