
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদে বহাল থাকছেন। এমনটাই জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এ দিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করতে অস্বীকার করেছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, 'আবেদনকারীর পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়ার মতো কোনও প্রাথমিক মামলা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন খারিজ করা হল।'
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিরোধী পক্ষকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। তার জবাব আবেদনকারীকে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ২৮ জুলাই। ফলে আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদে দায়িত্ব সামলাবেন।
আর এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন আরও এক বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তিনি বলেন, 'আদালতের এই রায়ে আমাদের নৈতিক জয় হয়েছে। আমাদের বিধায়কের সংখ্যা বাড়ছে।'
কী নিয়ে জটিলতা?
তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁকেই বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিয়েছিলেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু। কিন্তু একজন বহিষ্কৃত বিধায়ককে কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিলেন স্পিকার? বুধবার সেই প্রশ্নই তুলেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আর আজ সেই মামলায় রায় দিল আদালত। বুধবারের রায়ে আদালত জানিয়েছে, ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ করবেন।
আসলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। যদিও সেই নির্দেশকে অমান্য করে তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের বিধায়াকরা। প্রাথমিকভাবে ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক (পরে ৬৫ বলে দাবি) ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন। সেই চিঠি গ্রহণ করেন স্পিকার।
আর এই প্রক্রিয়া নিয়েই বুধবার প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্টর বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। তাঁর জিজ্ঞাসা ছিল, কেন তৃণমূলের তরফে আসা চিঠিকে গুরুত্ব দেওয়া হল না? কেন দ্বিতীয় চিঠিটি গ্রহণ করে নেওয়া হল?
বুধবার আদালত জানায়, সই জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছিলেন স্পিকার। এমন পরিস্থিতিতে দু’পক্ষকেই ডেকে শুনানির দরকার ছিল স্পিকারের। কিন্তু তিনি সেটা করেননি।
বিচারপতি রাওয়ের আরও প্রশ্ন ছিল, দলের কথা না শুনে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কি স্পিকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? তাঁর মন্তব্য, ‘বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল কি না, সেই প্রশ্নে যাচ্ছি না। কিন্তু যিনি প্রথম আবেদন করেছিলেন, তাঁকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা যায় কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মানা জরুরি। আগে তো ৭৮ জনের সমর্থনের দাবি ছিল। সেই দাবির সত্যতা যাচাই কোথায়? যদি স্পিকার ১ জুন বহিষ্কারের চিঠি পেয়ে থাকেন, তা হলে সেই বহিষ্কৃত ব্যক্তিকেই কী ভাবে তিনি বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিলেন?’
যদিও বুধবার সেই মামলায় রায়দান স্থগিত রেখেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ, বৃহস্পতিবার এই মামলার রায় ঘোষণা করেন তিনি। সেখানেই ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা থাকছেন বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।