
বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে। আর এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও দেখা গেল পালাবদলের ছোঁয়া। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) কাজ। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রভাত শাখা তাদের কর্মসূচি পালন করল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, এই প্রথম ক্যাম্পাসের ভিতরে এমন কোনও কর্মসূচি হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে যোগাসন এবং বিভিন্ন শারীরিক কসরতে যোগ দেন আরএসএস-এর প্রভাত শাখার আধিকারিকরা। তাঁরা সকলেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী।
বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই গত ৬ মে বিজেপি সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের সদস্যেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে একটি সভার আয়োজন করেছিলেন। আর মঙ্গলবার আরএসএসের তরফে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মচারী সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক পলাশ মাজি জানান, ‘শুরু হলো। এই কার্যক্রম অনন্তকাল চলবে।’ ৪০ মিনিট ধরে যোগব্যায়াম, যোগাসন, অনুলোম–বিলোম এবং কপালভাতি চালান তাঁরা। এর পরে মনীষীদের জীবনী পাঠ, সঙ্ঘের গান এবং শিবাজি প্রণাম হয় এ দিন।
পলাশ মাজির দাবি, ‘এক দশক আগে মাঠের এই অংশেই ‘বুদ্ধ ইন এ ট্র্যাফিক জ্যাম’ প্রদর্শিত হয়েছিল। তখন অনেকেই বাধা দিয়েছিল। উদ্যোক্তারা শারীরিক হেনস্থার মুখেও পড়েছিলেন। এখন রাজ্যে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।’ তাঁর আরও বক্তব্য,'এই বিশ্ববিদ্যালয়কে মাওবাদী প্রভাবমুক্ত করা হবে।'
এর আগে আরএসএস-পন্থী কর্মচারীদের একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয় যাদবপুরে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে আর্টস-সায়েন্স মোড় থেকে অরবিন্দ ভবন পর্যন্ত মিছিল করেন। বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি ও সক্রিয়তার জন্য পরিচিত যাদবপুর ক্যাম্পাসে আর কোনও দেশবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত হবে না বলে মাজি দাবি করেছেন। তিনি আপত্তিকর গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে ফেলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন এবং বলেন যে, ছাত্র ও কর্মীদের মধ্যে জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দৈনিক 'শাখা'-য় শারীরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আদর্শগত আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বাংলায় বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের শক্তিশালী উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য আরএসএস-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টার মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আরএসএস-এর সহযোগী শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শিক্ষক মহাসংঘ (ABRSM) স্বীকৃতি চেয়ে সোমবার উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছে।
এদিকে, বুধবার কেন্দ্রের পিএম-শ্রী প্রকল্পের অধীনে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক একটি তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছে যাদবপুরে, যা ১৫ই মে পর্যন্ত চলবে। পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার পিএম-শ্রী উদ্যোগটির বিরোধিতা করেছিল। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কক্ষের দেওয়ালে বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবির পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবিও টাঙানো হয়।