Advertisement

Smartphone : বেশি দামে কিনতে হবে মোবাইলের স্ক্রিন প্রোটেক্টর! স্মার্টফোনের নিয়মে বড় বদল

সস্তার মোবাইলের স্ক্রিন গার্ড বা প্রোটেক্টর কেনার দিন শেষ। কলকাতার গড়িয়াহাট, চাঁদনি, খিদিরপুরের মতো বাজারে খুব সস্তায় পাওয়া যায় মোবাইলের স্ক্রিন প্রোটেক্টর।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 22 Sep 2026,
  • अपडेटेड 3:05 PM IST
  • শুধু কাচের গুণমান নয়, স্ক্রিন প্রোটেক্টরের বিভিন্ন অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্যও নতুন স্ট্যান্ডার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
  • প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রেও থাকছে নির্দিষ্ট নিয়ম

সস্তার মোবাইলের স্ক্রিন গার্ড বা প্রোটেক্টর কেনার দিন শেষ। কলকাতার গড়িয়াহাট, চাঁদনি, খিদিরপুরের মতো বাজারে খুব সস্তায় পাওয়া যায় মোবাইলের স্ক্রিন প্রোটেক্টর। তবে তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে। এবার সেই পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও আসতে চলেছে নতুন নিয়ম। কেন্দ্র সরকার স্মার্টফোনের স্ক্রিন প্রোটেক্টরকে বাধ্যতামূলক ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যানডার্ড বা BIS রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার আওতায় এনেছে। ফলে নির্দিষ্ট মান পূরণ না করলে আগামী দিনে এই ধরনের পণ্য ভারতে তৈরি বা আমদানি করে বিক্রি করা যাবে না।

২১ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক 'স্ক্রিন প্রটেক্টরস ফর স্মার্টফোনস' পণ্যকে বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে ভারতে বিক্রি হওয়া স্মার্টফোন স্ক্রিন প্রোটেক্টরকে IS 19348:2025 ভারতীয় মান মেনে চলতে হবে।

অর্থাৎ, এখনই বাজার থেকে সব নিম্নমানের স্ক্রিন প্রোটেক্টর তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকদের নতুন মান মেনে নেওয়ার জন্য কয়েক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।

নতুন IS 19348:2025 মানে মূলত কাচের স্ক্রিন প্রোটেক্টরের গুণমান এবং পরীক্ষার নির্দিষ্ট মাপকাঠি তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাচের আকার, শক্তি এবং পৃষ্ঠের গুণমান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা। স্ক্রিন প্রোটেক্টর ব্যবহারের পরে মোবাইলের ডিসপ্লের স্বচ্ছতা যাতে অযথা কমে না যায়, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে।

আলোর সংক্রমণ বা লাইট ট্রান্সমিশন এবং স্ক্রিনে দৃশ্যমান ত্রুটি নিয়েও নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। ফলে অত্যধিক ঝাপসা, দৃশ্যমান ত্রুটিযুক্ত বা নির্ধারিত মান পূরণ করে না এমন পণ্য নতুন ব্যবস্থার আওতায় সমস্যায় পড়তে পারে।

শুধু কাচের গুণমান নয়, স্ক্রিন প্রোটেক্টরের বিভিন্ন অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্যও নতুন স্ট্যান্ডার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাডেসিভ বা আঠার গুণমান, ওলেওফোবিক কোচিং, অ্যান্টি গ্লেয়ারের সুবিধা, ব্লু লাইট ফিল্টারিং এবং প্রাইভেট ফিল্মের মতো বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ, কোনও স্ক্রিন প্রোটেক্টরে এই ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকলে তার কার্যকারিতা এবং গুণমানের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মান বজায় রাখতে হবে।

Advertisement

প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রেও থাকছে নির্দিষ্ট নিয়ম। স্ক্রিন প্রোটেক্টরের প্যাকেটে প্রস্তুতকারকের নাম, ব্যাচ নম্বর এবং পণ্যের থিকনেস বা পুরুত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হবে। এর ফলে ক্রেতারা পণ্যটি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এতদিন বাজারে বিভিন্ন দামের স্ক্রিন গার্ড বা টেম্পার্ড গ্লাস পাওয়া যায়। নামী ব্র্যান্ডের পাশাপাশি বহু কম দামের এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডবিহীন পণ্যও বিক্রি হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে প্রস্তুতকারক এবং আমদানিকারকদের নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁদের পণ্য নির্ধারিত ভারতীয় মান পূরণ করছে।

তবে এই নিয়মের অর্থ এই নয় যে ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে সব স্ক্রিন প্রোটেক্টর নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। বরং BIS-এর নির্ধারিত মান মেনে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ, নিম্নমানের বা নির্ধারিত মান না-পূরণ করা পণ্যের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তৈরি হবে।

দাম বাড়বে কি না, তা নিয়েও এখনও কোনও নির্দিষ্ট সরকারি ঘোষণা নেই। সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে স্ক্রিন প্রোটেক্টরের দাম বাড়ানোর কথা বলা হয়নি। তবে নতুন মান পূরণ করতে অতিরিক্ত পরীক্ষা, মান যাচাই এবং সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হলে কিছু প্রস্তুতকারক বা আমদানিকারকের খরচ বাড়তে পারে। সেই প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির উপর।

১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর BIS-এর নির্ধারিত মান মেনে চলা স্ক্রিন প্রোটেক্টরই ভারতীয় বাজারে বিক্রির জন্য অনুমোদিত কাঠামোর মধ্যে থাকবে।

Read more!
Advertisement
Advertisement