
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে লেখা বেশ কিছু স্লোগান মুছে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। যদিও রাত নামতেই ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে জায়গা পেলেন কার্ল মার্ক্স। লেখা হল স্লোগান। আর এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা বেড়েছে।
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সরব হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে লেখা রয়েছে 'দেশবিরোধী' সব স্লোগান। আর তাঁর মুখ থেকে বার্তা পাওয়ার পরই কিছু দেওয়াললিখন মুছে ফেলা হয়। তবে রাত গড়াতেই 'স্বমহিমায়' ফিরে এল যাদবপুর। দেওয়ালে লেখা হল স্লোগান।
মাথায় রাখতে হবে, গত কয়েকদিন ধরেই খবরের শিরোনামে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালায়। প্রথম এবিভিপি ও এসএফআই-এর সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এমন অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখেও যাদবপুর উঠে আসে।
তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, কীভাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের দেওয়ালে 'কিষেনজি স্যালুট' স্লোগান লেখা হয়? সেখানে 'কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি' স্লোগান ঠিক কীভাবে ওঠে? আর এই সব দেশবিরোধী স্লোগানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
আর তাঁরা মুখ থেকে বার্তা পাওয়ার পরই অ্যাক্টিভ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা বেশ কিছু স্লোগানের উপর সাদা রং করে দেয়। যদিও কর্তৃপক্ষ এটা মানতে চায়নি যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এই কাজ করা হয়েছে। বরং তারা দাবি করেছে, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন কাজ। সেই মতোই দেওয়াললিখনের উপর রং করা হয়েছে।
যদিও এই কাজ করার পর বেশি সময় কাটতে পারেনি। বরং রাতের বেলাতেই ফের দেওয়ালে স্লোগান লিখে দেওয়া হল। এমনকী আঁকা হয়েছে গ্রাফিতি। আর বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তেজনার পারদ চড়েছে।
মার্ক্সের স্লোগান লেখার ইস্যুতে ইতিমধ্যই সরব হয়েছে এবিভিপি। তারা ফেসবুকে, 'কার্ল মার্ক্সের এই উক্তিটা দেখলেই একটা বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে যায়, চরম বামপন্থী রাজনীতির একটা বড় অংশে রাজনৈতিক হিংসার জায়গাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এখনও কিছু ক্ষেত্রে আছে।'
তাদের বক্তব্য, 'স্লোগান লিখে, স্লোগান দিয়ে বা রাজনৈতিক ভয় দেখিয়ে যাদবপুরের মাটিতে নকশালপন্থী রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।'
এই নয়া ঘটনা নিয়ে নিন্দায় বিজেপি নেতা তথাগত রায়ও। তিনি এক্স-এ লেখেন, 'যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও এক সুবিধাবাদী কার্ল মার্ক্সের একটি উদ্ধৃতি লিখে দিয়েছে। বেশ ভালোই। তবে বিশ্বের কাছে প্রত্যাখ্যাত, ব্যর্থ এই দার্শনিককে এখনও মনে রাখার ক্ষমতা একমাত্র বাংলার বামপন্থীদেরই আছে...'