
বিধানসভার মতো লোকসভাতেও কি ভেঙে যাচ্ছে তৃণমূল? সংসদেও এবার ঋতব্রত মডেল? রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা এখন তুঙ্গে। তৃণমূলের কোনও কোনও সাংসদ ইতিমধ্যেই বেসুরো। বড় ইঙ্গিত মিলেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেও। কাকালি ঘোষ দস্তিদারের পোস্ট চর্চায়।
কী বললেন ঋতব্রত?
শুক্রবার সন্দীপন সাহার বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমার সঙ্গে গত এক সপ্তাহে কোনও সাংসদের কথা হয়নি। প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে আমার এমনিতে যোগাযোগ রয়েছে, তবে এর মধ্যে কথা হয়নি কারও সঙ্গেই।' সঙ্গে তিনি বলেন, 'অপেক্ষা করুন, দেখতে পাবেন। কাল কী হবে, কেউ বলতে পারে না। ধৈর্য ধরুন। অনেক কিছু হতে পারে।'
কাকলির তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে এদিন কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, 'আপনি কী মনে করেন একটি রাজনৈতিক পরিবারের ৪ বারের সংসদ সদস্য, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকে ৪ দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তিনি নিজের স্বার্থের কথা ভাবেন?' ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে কাকলি লেখেন, 'এটা আসলে নীতির বিরুদ্ধে এবং শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে দেওয়া একটি রায়।' তবে কি তিনি তৃণমূল ছাড়তে চলেছেন? না লোকসভায় তাঁর নেতৃত্বেই হবে ঋতব্রত মডেল? এই নিয়ে জল্পনা জোরদার।
বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের একজোট হওয়ার পরে একেবারে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছে তৃণমূল৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংসদের অন্দরেও এই একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিধানসভায় সফল ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়ী বিধায়ককে নিজেদের দিকে টানার পরে ঋতব্রত-সন্দীপনের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তৃণমূল সাংসদদের সমর্থন নিজেদের দিকে টানা। কারণ, দলের নাম তথা প্রতীকের উপরে অধিকার বজায় রাখতে হলে বিধায়কদের পাশাপাশি দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদদের সমর্থনও তাদের জরুরি৷ সেক্ষেত্রে, আবারও বড় ধরনের ফাটলের মুখোমুখি হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল, মনে করছেন রাজনৈতিক কারবারিরা।
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদ রয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদীয় দলের নেতা। সম্প্রতি চিফ হুইপের পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সে দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা।
সেই থেকেই অসন্তুষ্ট কাকলির একের পর এক মন্তব্য সামনে এসেছে।