
কলকাতার নামী পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল শ্রীভূমি। থিমপুজোয় প্রতিবছরই তাক লাগিয়ে দেয় এই দুর্গাপুজো। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের আমলে শ্রীভূমির পুজোটি প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর পুজো হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই সুজিত এখন জেলে। রাজ্যে পালাবদলের পরে শ্রীভূমির পুজোর জৌলুস একইরকম থাকবে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। সেই জল্পনার অবসান হল। ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোতেও তা লাগানো থিম প্যান্ডেল হচ্ছে শ্রীভূমিতে।
হাওয়া মহল থিমে এবারের পুজো
এবারে শ্রীভূমির থিম হল জয়পুরের হাওয়া মহল। ভারতের অন্যতম আশ্চর্য ঐতিহাসিক স্থাপত্য। ৯৫৩টি জানলা। শ্রীভূমিতে এখন নতুন পুজো কমিটি গঠিত হয়েছে। খুঁটিপুজোর দিনই তারা ঘোষণা করে, হাওয়া মহল থিমে এবারের পুজোর প্যান্ডেল তৈরি হবে।
মণ্ডপ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির বদল
শ্রীভূমি পুজো কমিটির নয়া কোষাধ্যক্ষ অঙ্কুর ভৌমিক জানান, হাওয়া মহলের থিমে প্যান্ডেল গড়তে ইতিমধ্যেই কমিটির একটি প্রতিনিধি দল জয়পুরের হাওয়া মহল দেখে এসেছেন। প্রতিমাশিল্পী প্রদীপ রুদ্রপাল এবং পুজোর পুরোহিত সোমেশ শাস্ত্রীকে আগের মতোই দায়িত্বে রাখা হয়েছে। তবে গত নয় বছর ধরে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজোর মণ্ডপ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা রোমিও হাজরাকে এবার আর রাখা হয়নি। 'বাহুবলী' থেকে 'অক্ষরধাম', একাধিক আলোচিত থিমের মণ্ডপ নির্মাণের দায়িত্ব সামলানো রোমিও হাজরার পরিবর্তে এ বছর সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন সংলগ্ন মিনাখাঁর গৌরী ডেকোরেটর্সকে। নতুন উদ্যোক্তা আশাবাদী, প্রতিবছরের মতো এবারও ভিড় টানবে শ্রীভূমির পুজো।
একডালিয়ার পুজোর থিম সোমনাথ মন্দির
অঙ্কুর ভৌমিকের কথায়, 'এবারের পুজো শুধুমাত্র ক্লাবের সদস্যের মধ্যেই আবদ্ধ থাকবে না, যাঁরা সদস্য নন, স্থানীয়রা সকলেই পুজোর কাজে যোগ দিতে পারেন।' শ্রীভূমি ক্লাবে একটি পৃথক মহিলাদের শাখাও গঠন করা হচ্ছে। নতুন সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ১৫ অগাস্টের পরে নতুন সদস্যপদের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম নামী পুজো একডালিয়া এভারগ্রিনের এবারের থিম গুজরাতের সোমনাথ মন্দির।