
রাজ্যে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা চালু করেছে নবগঠিত রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, মহিলাদের আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহণ ব্যবহারকে আরও উৎসাহিত করা। তবে এই সুবিধা চালুর পরও বহু মহিলা সরকারি কর্মচারী স্বেচ্ছায় বাসের টিকিট কেটে যাতায়াত করছেন। তাঁদের এই দায়িত্বশীল মানসিকতার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সমাজের এমন অনেক মহিলা আছেন যাঁদের এই আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। সেই কারণে যাঁরা স্বেচ্ছায় টিকিট কেটে যাতায়াত করছেন, তাঁদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।' তাঁর কথায়, 'সরকারি প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল প্রকৃত প্রাপকদের পাশে দাঁড়ানো। যাঁদের আর্থিকভাবে এই সুবিধার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁরাই যেন এই প্রকল্পের সুফল পান, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।'
এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে মহিলাদের জন্য একটি 'পিঙ্ক কার্ড' চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং সরকারি ভর্তুকির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে। কীভাবে এই কার্ড বিতরণ করা হবে বা কারা এর আওতায় আসবেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে সরকার শীঘ্রই এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকারকে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বহন করতে হবে। এত বড় অঙ্কের সরকারি ব্যয় সত্ত্বেও সরকার এই প্রকল্প চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের বক্তব্য, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন, তাঁদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। তাই সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই কারণেই স্বেচ্ছায় টিকিট কেটে যাতায়াত করা মহিলাদের উদাহরণকে সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রী সকলের কাছে দায়িত্বশীলতার বার্তা দিয়েছেন।