
বাদল অধিবেশনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন দল NCPI-কে কি স্বীকৃতি পাবে? এই নয়া দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ কী? এই নিয়ে জল্পনার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঘণ্টাখানেক রুদ্ধদ্বার মিটিং করলেন এনসিপিআই-এর নেতা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জেতা উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাতে ওই বৈঠকের পরে আজ অর্থাত্ মঙ্গলবার NDA-এর মিটিংয়ে যোগ দেবেন এনসিপিআই নামক নয়া দলটি। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের দল ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবে সংসদে।
স্পিকার এখনও সুদীপদের দলকে স্বীকৃতি দেননি
অন্যদিকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছেন মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকারের হাতে চিঠিও তুলে দিয়েছেন তিনি। দাবি করেছেন, তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের সদস্যপদ দ্রুত খারিজ করা হোক। সম্প্রতি তাঁদের যে আসন বরাদ্দ করা হয়েছে, তা-ও প্রত্যাহার করা হোক। লোকসভায় ২৮ জন সাংসদ যে আসনে বসতেন, তা-ই পুনর্বহাল করা হোক। এহেন পরিস্থিতিতে শুভেন্দুর সঙ্গে সুদীপের বৈঠক অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। বস্তুত, স্পিকার এখনও সুদীপদের দলকে স্বীকৃতি দেননি। অভিষেকের দাবি, তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ দ্রুত খারিজ করা হোক। ১৯৮৫ সালের লোকসভা সদস্য নীতির ৬ নম্বর ধারা অনুসারে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হোক।
শুভেন্দু শেষ মুহূর্তে দিল্লি সফর বাতিল করেছেন
সোমবার নবান্নে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মিটিং চলে সুদীপের সঙ্গে শুভেন্দুর। সোমবার সন্ধ্যায় রাজ্য সচিবালয় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এই বৈঠক, কারণ বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভেন্দু শেষ মুহূর্তে দিল্লি সফর বাতিল করেছেন। তবে বৈঠকে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে সরকার বা বিজেপি, কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি।
অন্যান্য সাংসদদর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন শুভেন্দু
সূত্রের খবর, দিল্লি যেতে না পারার কথা জানিয়ে শুভেন্দু ফোনে এনসিপিআই-এর কয়েকজন শীর্ষ সাংসদের সঙ্গে কথা বলেন। যদিও সফর বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ তিনি জানাননি। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পরে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া একাধিক প্রাক্তন সাংসদের দাবি, দিল্লিতে ওই দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এই সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের ভবিষ্যৎ এবং বিজেপির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
বর্তমানs ২০ জন সাংসদের শক্তি নিয়ে যদি এনসিপিআই পৃথক সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তা হলে লোকসভায় এনডিএ-র অন্যতম বৃহৎ শরিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে তারা। এর আগেও দলটি কেন্দ্রের শাসক জোটের সঙ্গে নিজেদের ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিয়েছিল।