
লকডাউনের সময়েও ১ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে সুজিত বসুর রেস্তোরাঁ। ED-র হাতে প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীর গ্রেফতারির পর চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে।
কোভিড মহামারির সময়ে লকডাউন ঘোষণা হয়েছিল দেশজুড়ে। সে সময়েও প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর চাইনিজ রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। সব দোকান ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকার সময়ে সুজিতের এই হোটেল কীভাবে কোটি টাকার বেশি আয় করল? আদালতে প্রশ্ন তুলেছেন ED-র আইনজীবী।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিপুল অঙ্কের অর্থপাচারের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুজিত বসুর ১০ দিনের হেফাজত চায় ED। পাশাপাশি নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং তদন্ত এড়ানোর চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত ১০ দিনের ED হেফাজতের নির্দেশও দিয়েছে।
আদালতে ED-র আইনজীবী দাবি করেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে সুজিত বসু একাধিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলে তদন্ত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ED-র আইনজীবী বলেন, 'আমরা ওঁকে কিছু প্রশ্ন করেছি, কিন্তু তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। যদি আমরা তাঁকে হেফাজতে নিতে না পারি, তাহলে তিনি বাইরে গিয়ে অন্যদের সতর্ক করবেন, প্রমাণ নষ্ট করবেন এবং আমাদের তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'
সংস্থার আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুজিত বসু ডিজিটাল প্রমাণ নষ্ট করতে এবং নথিপত্রে কারচুপি করতে পারেন, যদি তাঁকে অবিলম্বে হেফাজতে না নেওয়া হয়।
ED-র দাবি, সুজিত বসু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা জমা পড়েছে, যার মধ্যে তাঁর চাইনিজ রেস্তোরাঁ ব্যবসার অ্যাকাউন্টও রয়েছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে একটি রেস্তোরাঁ করোনা লকডাউনের সময় ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকার বিক্রি দেখাল, যখন দেশের অধিকাংশ রেস্তোরাঁ কার্যত বন্ধ ছিল।
ED-র দাবি, 'যখন গোটা দেশ মহামারির কারণে লকডাউনে ছিল, তখন তাঁর চাইনিজ রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ১১ লক্ষ জমা পড়ে, যা আসলে অর্থপাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।'
এ ছাড়াও সুজিত বসুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টগুলিতে ৬৮ লক্ষ টাকা, ১ কোটি ৭৫ লক্ষ এবং ১ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা নগদ জমার মতো একাধিক সন্দেহজনক লেনদেনের কথাও তুলে ধরে তদন্তকারী সংস্থা। ED-র অভিযোগ, প্রায় ১৫০ জনকে বেআইনিভাবে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল। এই ঘটনায় অয়ন শীল এবং নিতাই দত্তর নামও জড়িয়েছিল।
সংস্থার আরও দাবি, সুজিত বসু বারবার সমন এড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং শুধুমাত্র কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর তদন্তকারীদের সামনে হাজির হন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, অর্থপাচারের জন্য দুটি ‘শেল কোম্পানি’ তৈরি করা হয়েছিল, যার মধ্যে একটি হল রেডিয়ান্ট প্রাইভেট লিমিটেড।
ED আরও প্রশ্ন তোলে, কীভাবে সুজিত বসুর পরিবারের সদস্যরা নির্মাণ ব্যবসায় প্রবেশ করে বিপুল আর্থিক সম্পদ গড়ে তুললেন, অথচ সেই অনুপাতে সম্পত্তি কেনার তথ্য পাওয়া যায়নি। ডিজিটাল ও নথিগত প্রমাণ উদ্ধার এবং আরও গভীর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তদন্ত চলাকালীন বসুর ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন জানায় ED।