
বিধানসভা ভোটের পর থেকেই ভাঙন চলছে তৃণমূলে। দলের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। সেই পদত্যাগী তিন সাংসদই এদিন বিকেলে পৌঁছন সল্টলেকে বিজেপির দফতরে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুস্মিতা দেব জানিয়ে দেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতেই তিনি এসেছেন। তখন থেকেই জল্পনা জোরদার হয় তিন জনই যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে। সেই জল্পনায় শিলমোহর দিলেন স্বয়ং শমীক ভট্টাচার্য। সাংবাদিক সম্মেলনে ৩ জনের বিজেপি যোগের কথা ঘোষণা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
প্রসঙ্গত, রাজ্যসভা থেকে ৩ সাংসদের পদত্যাগের পর থেকেই জল্পনা ছিল, জল্পনার অবসান ঘটল বৃহস্পতিবার। বিজেপির রাজ্যসভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগদান করেন তৃণমূল ত্যাগী তিন সাংসদ সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুখেন্দু শেখর রায়। যোগদানের পর শমীক জানিয়ে দেন সুখেন্দু-সুস্মিতা-প্রকাশ তিনজনই এখন বিজেপি কর্মী।
সামনেই রাজ্যসভার উপ-নির্বাচন। এবার কি তাঁদের রাজ্যসভার টিকিট দেবে বিজেপি? সুস্মিতাদের যোগদানের পর এই জল্পনা আরও জোরাল হয়ে উঠেছে। প্রসঙ্গত, গতমাসে পরপর তিন তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করেন। আগামী ২৪ জুলাই এই তিন আসনে ভোট। সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে এবার তিনটি আসনই বিজেপির দখলে যেতে বসেছে। কারণ, বিধায়ক সংখ্যা এবং তৃণমূল শিবিরে ভাঙনের জেরে ঘাসফুল শিবির প্রার্থীই দিতে পারবে না। তার ভিত্তিতেই তিনটি আসন বিজেপির দখল করার কথা। বিজেপি কাদের প্রার্থী করবে, তা নিয়ে এই মুহূর্তে সরগরম রাজনৈতিক মহল। ঠিক এমন সময়ে সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা ও প্রকাশের বিজেপি সদর দততেরে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্যর হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করলেন।
তৃণমূলত্যাগী সুখেন্দুশেখর রায়কে ফের বিজেপি মনোনয়ন দিতে চলেছে, এমনটাই সূত্রের খবর। উল্লেখ্য, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় এসেছিলেন। ওই দিন তাঁর সঙ্গে সুখেন্দুশেখর রায় দেখা করেন। এর পর তাঁর সংসদের উচ্চকক্ষে ফেরা একপ্রকার নিশ্চিত। তা ছাড়া বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে ভাবে সুখেন্দুশেখরের প্রয়াত পিতা শিবেন্দুশেখর রায়কে স্মরণ করেছিলেন, তা-ও তাঁর রাজ্যসভার প্রত্যাবর্তনের একটি অন্যতম ইঙ্গিত বলেই অনেকে মনে করছেন। এদিন শমীক ভট্টাচার্যও সুখেন্দু শেখর রায়ের বাবা শিবেন্দুশেখর রায়ের অবদানের প্রসঙ্গ তোলেন।
তৃণমূলের সাংসদপদ ছাড়ার পর অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন সন্তোষমোহন-কন্যা সুস্মিতা। সেই সময় ভাবা হয়েছিল, এ বার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার পদ ছেড়ে আবারও অসমের রাজনীতিতে মনোননিবেশ করবেন তিনি। কিন্তু কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের একটি সূত্র জানাচ্ছে, যে হেতু পশ্চিমবঙ্গ থেকে দু দফায় সুস্মিতা সংসদে গিয়েছেন। তাই পশ্চিমবঙ্গ থেকেই তাঁর রাজ্যসভায় যাওয়া নিশ্চিত। কারণ, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানের পর ২০২১ সালে মানস ভূঁইয়ার ছেড়ে দেওয়া রাজ্যসভা আসনে সাংসদ করা হয়েছিল তাঁকে। ২০২৩ সালে তাঁর রাজ্যসভায় আসনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও ২০২৪ সালে সুস্মিতাকে সংসদে পাঠান। ২০৩০ সাল পর্যন্ত সুস্মিতা রাজ্যসভার মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও পদত্যাগ করেছেন তিনি। সেই কারণেই তাকে আবারও প্রার্থী করতে পারে বিজেপি শিবির।
সুখেন্দু ও সুস্মিতার সঙ্গে পদত্যাগ করেছিলেন আরও এক তৃণমূল সাংসদ তথা আলিপুরদুয়ারের ভূমিপুত্র প্রকাশচিক বরাইক। বিজেপি সূত্রে খবর, তাঁকে আবারও মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না এ বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তিনিও এদিন বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন।
এদিকে রাজ্যসভার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে তাই আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে দিল্লি থেকে ঘোষণা করে দেওয়া হবে বলেই জানাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির একটি সূত্র। ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিধানসভা ভবনে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষ হওয়ার পর বিকেল ৫টা থেকে গণনা শুরু হবে। ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কারা হবেন প্রার্থী? জল্পনা তুঙ্গে। আর তার মাঝেই, বিজেপিতে যোগ দিলেন তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ।