Advertisement

Suvendu Adhikari Mamata Banerjee: '৭৫ বছর হয়ে গিয়েছে, বাড়িতে আরাম করুন,' মমতাকে ভোটে না দাঁড়ানোর পরামর্শ শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসার পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, 'মমতার বয়স প্রায় ৭৫ বছর। তাই আর নির্বাচনে না লড়ে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়া উচিত তাঁর।'

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণে শুভেন্দু অধিকারীমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণে শুভেন্দু অধিকারী
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 28 Oct 2026,
  • अपडेटेड 5:51 PM IST
  • '৭৫ বছর হয়ে গিয়েছে, বাড়িতে আরাম করুন'
  • মমতাকে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসার পরামর্শ
  • ভবানীপুর কেন ছাড়েননি তা-ও ব্যাখ্যা করলেন

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসার পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, 'মমতার বয়স প্রায় ৭৫ বছর। তাই আর নির্বাচনে না লড়ে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়া উচিত তাঁর।' একইসঙ্গে কেন ভবানীপুর ধরে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়েছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, 'ভবানীপুর ছেড়ে দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের উপনির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেয়ে যেতেন।'

শুভেন্দু বলেন, 'নন্দীগ্রামের মানুষ আমার সিদ্ধান্তে কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ভবানীপুর ছেড়ে দিতে পারতাম। কিন্তু কেন সেই সিদ্ধান্ত নিলাম, তা নন্দীগ্রামের মানুষকে বুঝিয়েছি, ভবানীপুর ছেড়ে দিলে যে ব্যক্তি আমার কাছে দু'বার হেরেছেন, তিনি আবার নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেয়ে যেতেন। ওরা বুঝেছেন। আমি নন্দীগ্রামের মানুষকে ধন্যবাদ জানাই।'

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনেও দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতাকে হারান তিনি। সেই জয়ের প্রসঙ্গ টেনেই মমতাকে আর নির্বাচনে না লড়ার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ এবং শাখারভ সরকার বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন। চলতি মাসের গোড়ায় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তাঁরা। 

নন্দীগ্রামের মানুষকে আশ্বাস শুভেন্দুর
ভবানীপুর ধরে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে এলাকার মানুষ অসন্তুষ্ট বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তবে তাঁদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, 'নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে করা প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। নতুন বিধায়ক হাসিরানি রথের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়িত করা হবে।' নন্দীগ্রামের মানুষ হাসিরানি রথকে ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী করেছেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

চন্দ্রনাথ রথের খুন নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?
এদিন চন্দ্রনাথ রথের খুন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। গত ৬ মে, পশ্চিমবঙ্গে BJP ক্ষমতায় আসার কয়েক দিন পরেই মধ্যমগ্রামে গুলিতে খুন হন মুখ্যমন্ত্রীর প্রাক্তন সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর সহযোগী হিসেবে কাজ করার কারণেই খুন হতে হয়েছে চন্দ্রনাথকে।

Advertisement

শুভেন্দু জানান, এই ঘটনায় CBI ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে কথিত শুটার এবং সুপারি কিলারও রয়েছে বলে দাবি তাঁর। তবে খুনের জন্য ২ কোটি টাকার সুপারি কোথা থেকে এসেছিল, তা এখনও তদন্ত করে বের করতে হবে বলে জানান তিনি।

এদিন শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, ওই টাকা কি ক্যামাক স্ট্রিট, কালীঘাট না কি ডায়মন্ড হারবার থেকে এসেছিল? তাঁর বক্তব্য, টাকার উৎস চিহ্নিত হলেই তদন্ত সম্পূর্ণ হবে। তাঁর এই মন্তব্যে ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর, কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন এবং অভিষেকের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে, তা কার্যতই স্পষ্ট। তবে এখনও পর্যন্ত তদন্তে ওই টাকা কোথা থেকে এসেছিল বা কারা খুনের নির্দেশ দিয়েছিল, তা প্রকাশ্যে আসেনি।

রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের জয় নিয়ে BJP-র দাবি
নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলকে BJP-র কাছে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, দুই কেন্দ্রেই বিরোধীরা কার্যকর লড়াই করতে পারেনি। নন্দীগ্রামে ভোটের আগেই বিরোধীরা ময়দান ছেড়ে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, রেজিনগরে বিরোধী প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে পারেননি।

রেজিনগরের ফলাফলকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। কারণ, এই কেন্দ্রের ভোটারদের মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে BJP-র এই জয়কে নিজেদের প্রচলিত ভোটব্যাঙ্কের বাইরে জনসমর্থন বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে দল।

BJP-কে সাম্প্রদায়িক এবং সংখ্যালঘু-বিরোধী দল হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগও করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিরোধীরা নির্বাচনী প্রচারে BJP-কে সাম্প্রদায়িক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া মুসলিম মহিলারাও BJP-কে সমর্থন করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেজিনগরে ৭০ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৫ হাজার মহিলা সংখ্যালঘু পরিবারের। এই কেন্দ্রের মোট ৩০০টি বুথের মধ্যে ২০০টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায়। তা সত্ত্বেও BJP প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন।

শুভেন্দুর বক্তব্য, ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে উন্নয়ন এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধাই ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। BJP-র সদস্যরা হিন্দু ও সনাতনী এবং তাঁরা তিলক পরেন, তবে সরকার চালানোর ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

উন্নয়নের কাজ নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
BJP সরকারের প্রথম ছ'মাসের কাজকেও এদিন তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যে উন্নয়নের পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এখনও অনেক কাজ বাকি। নিজের বক্তব্য বোঝাতে খাবারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত যা কাজ হয়েছে, তা কেবল চা-বিস্কুট খাওয়ার মতো। প্রাতরাশ ও দুপুরের খাবার পরিবেশন করাই এখনও বাকি। রাজ্যের উন্নয়নের দিকে নজর রাখার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি।

সব মিলিয়ে এদিন বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভবানীপুর ধরে রাখার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা, চন্দ্রনাথ রথের খুনের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন এবং নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে BJP-র জয়ের দাবি। পাশাপাশি উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধার মাধ্যমে BJP রাজ্যে আরও বেশি মানুষের সমর্থন পাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement