
বীরভূমের 'পাথরসম্রাট' টুলু মণ্ডল বর্তমানে পলাতক। তাঁর মোট ৯৩ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে রাজ্য পুলিশ। শুক্রবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, 'প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ছাড়া এ সব করা যায় না। না হলে এতদিন ধরে এত বড় ব়্যাকেট চালানো যেত না। এক্ষেত্রে যারা ওয়াচডগের ভূমিকায় ছিলেন, তাঁদেরও সচেতনতার অভাব ছিল বা প্রতিবাদ করতে গিয়ে করতে পারেননি। ১৪ তলা চোখ খুলে রাখলে, নির্দেশ সেখান থেকেই যায়। হেড অফ দ্য ইনস্টিটিউশন যদি চায় তাহলে দুর্নীতি হয়, না চাইলে হয় না।'
টুলু মণ্ডল বিদেশে ফেরার বলই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সাংবাদিক বৈঠক থেকে এক এক করে বাজেয়াপ্ত হওয়া টুলুর বিপুল সম্পত্তির ফিরিস্তি দেন শুভেন্দু। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ৯৩ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। তা পুলিশ ফ্রিজ করেছে। এর মধ্যে নগদ পাওয়া গিয়েছে ৫৩ লক্ষ টাকা। সোনা পাওয়া গিয়েছে ২৬৮ গ্রাম, রুপো ৪০০ গ্রাম এবং প্ল্যাটিনাম ৮৩ গ্রাম। ৩টি ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন, সিপিউ, মানি রিসিট, চেক বুক, রোড চালান সহ একাধিক জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এছাড়াও ৮৩ ট্রাক এবং একাধিক BMW, মার্সিডিজ, অডি গাড়ি পাওয়া গিয়েছে। হদিশ মিলেছে ২১ সম্পত্তির। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সবটাই বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এই বিপুল সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, একটি ফার্ম হাউস সহ মোট ৩০০ বিঘা।
অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর আত্মীয় মিনারের বাড়ি থেকে বুধবার যে টাকা উদ্ধার হয়েছে, তা সবটাই টুলু মণ্ডলের। প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার হয়। পাওয়া যায় ১৫ কেজি সোনাও। মিনারকে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতার করা হয়। মিনার ধরা পড়লেও মূল অভিযুক্ত টুলুর খোঁজ নেই। রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, ওই পাথর ব্যবসায়ী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর শুভেন্দু অধিকারী এদিন জানিয়ে দেন, সম্ভবত ৪ মে-এর পর থেকেই বিদেশে পালিয়েছে টুলু।
শুভেন্দুর দাবি, সরকারের টাকা ফাঁকি দিয়ে এই বিপুল সম্পত্তি করেছিল টুলু। সবটাই সাধারণ মানুষের টাকা। আইন মেনে মামলার তদন্ত হবে। সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, জোর করে জমি আত্মসাৎ করা হতে পারে। ভয় দেখিয়ে তোলা আদায় করা হতে পারে। সবেরই তদন্ত হবে। পাথর, বালির খাদানের অনিয়ম নিয়েও তদন্ত হবে।