
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার সোমবার একটি বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্য সরকারের অধীনস্থ অ-বিদিবদ্ধ সংস্থা, বোর্ড, সংগঠন এবং সরকারি খাতের উদ্যোগগুলিতে নিযুক্ত সমস্ত মনোনীত সদস্য, পরিচালক এবং চেয়ারম্যানদের পদ অবিলম্বে বাতিল করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ৬০ বছর বয়সের স্বাভাবিক অবসর গ্রহণের পর বর্ধিত মেয়াদে বা পুনরায় নিয়োগে কর্মরত আধিকারিকদের চাকরিও অবিলম্বে বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা একটি সরকারি আদেশে সমস্ত অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব এবং বিভাগীয় সচিবদের এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন আমলা জানিয়েছেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কতগুলি নিয়োগ এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রভাবিত হবে, তা সরকার এখনও স্পষ্ট করেনি।
এদিকে, সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য BSF জমি হস্তান্তরের অনুমোদন রাজ্য সরকার অবিলম্বে দিয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি ১১ মে শুরু হবে এবং ৪৫ দিনের মধ্যে শেষ হবে।' মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত যোজনা বাস্তবায়ন করা হবে এই মুহুর্ত থেকে এবং রাজ্যে অন্যান্য কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকারি স্কুলে চাকরির আবেদনকারীদের সময়সীমা ৫ বছর বাড়ানোর বিষয়টিও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিসভা জাতীয় ও রাজ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করার নির্দেশ জারির ক্ষমতাও মুখ্য সচিবকে দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার রাজ্যে IPC কার্যকর না করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছিল। রাজ্য সরকার এখন এটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'পূর্ববর্তী সরকার ২০২৫ সালের জুন মাসের জনগণনা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি উপেক্ষা করেছি, যা এখন অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।'