
কেন বামপন্থীদের স্টলে হনুমান চালিশা এবং গীতা বিক্রি হয় না? প্রশ্ন তুলে ফের একবার CPIM-কে একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার রাজারহাট-কেষ্টপুরে গণেশ পুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে মঞ্চ থেকে আবারও মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন বামেদের দুর্গাপুজোর সময় দেওয়া সাহিত্যের স্টল নিয়ে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, 'আমাদের ৩৪ বছর যারা পুজো লিখতে দেয়নি, তারাই আমাদের পঞ্জিকা, শাস্ত্র, ঐতিহ্য, পুরোহিত, মন্ত্রচারণ,পরম্পরা, ঘটোত্তলন, নিরঞ্জন, আরতি, পুষ্পাঞ্জলী, প্রসাদ, সাত্ত্বিকতা সব ভুলিয়ে দিয়েছিল। লাল রাজত্বের সেই লোকেরা দুর্গাপুজো লিখবে না। তারা মহালয়া শুনবে না, মণ্ডপে প্রবেশ করে মাকে আরতি করবে না, হাতে ফুল নিয়ে বাসন্তী রূপচরিতে সর্বশত্রু বিনাশিনী, রূপংদেহী জয়ংদেহী, যশোদেহী বলবে না। প্যান্ডেল থেকে দূরে লাল শালু লাগিয়ে বসত।' এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, 'আমার কথা গিয়ে পরীক্ষা করবেন এবারে। ওদের স্টলে যে বইগুলো থাকতো তার মধ্যে একটাও স্বামী বিবেকানন্দের লেখা বই পাবেন না। লোকেশ্বরানন্দজির বই পাবেন না, একটাও উদ্বোধন প্রকাশকের বই পাবেন না। প্রণব প্রকাশনের ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের বই পাবেন না। হাজার খুঁজলেও পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস সম্পর্কে জানার বই পাবেন না। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ করেছিলেন জিন্নাহ আর নেহরু, সে বই পাবেন না। বিদেশি কার্ল মার্ক্স আর লেনিনের বই পাবেন। হাজার চেষ্টা করলেও হনুমান চালিশা, গীতা পাবেন না। যেখানে পরিষ্কার লেখা থাকে ধর্ম মানি না, ধর্ম আফিম।'
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর বদলে শারদোৎসব লেখা হলে বামেদের পুজোর সময়ে বইয়ের স্টল করতে দেওয়া হবে না। এই নিয়ে বিস্তর বিতর্কের সৃষ্টি হয়। CPIM-এর পক্ষ থেকে প্রবল আপত্তি তুলে জানানো হয়, স্টল হবেই। শারদোৎসবই লেখা হবে এবং প্রয়োজনে স্টলের সংখ্যা বাড়বে।
CPIM-এর কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, 'শারদ শুনলেই ওঁর নারদের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, তাই রেগে যাচ্ছেন।' আবার শতরূপ ঘোষ বলেন, 'আচ্ছা দুর্গাপুজোই লিখব কিন্তু স্টলের বাইরে বড় স্ক্রিন লাগিয়ে নারদা স্টিং অপারেশনের ভিডিও চালাব, তাহলে আপত্তি নেই তো?' এই নিয়ে বিস্তর জলঘোলার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর ফের আক্রমণ, সঙ্গে প্রশ্ন, 'কেন বামেদের বইয়ের স্টলে মার্ক্স-লেনিন, হনুমান চালিশা-গীতা নেই কেন?'