
Suvendu Adhikari Vs Mamata Banerjee: ভোট মিটলেও পারদ কমছে না বঙ্গ রাজনীতিতে। এবার সংঘাতের কেন্দ্রে স্ট্রংরুম। আর সেই স্ট্রংরুম চত্বরে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নেত্রীর ‘আটপৌরে’ শাড়ি থেকে শুরু করে তাঁর দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা নিয়ে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্ট্রংরুম চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের প্রতি বিষোদ্গার করেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, সেখানে গিয়ে চার ঘণ্টা বসেছিলেন স্রেফ অভিযোগের জমি তৈরি করতে। পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই তিনি এখন রিটার্নিং অফিসার (RO) কিংবা ইনচার্জদের বিরুদ্ধে আঙুল তোলার ছক কষছেন বলে শুভেন্দুর অভিযোগ।
শুভেন্দুর কটাক্ষ ছিল মুখ্যমন্ত্রীর পরিহিত পোশাকের প্রতিও। এদিন রীতিমতো কটাক্ষের সুরে বিরোধী দলনেতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এদিন আটপৌরে শাড়ি পরে এসেছিলেন। তিনি রাতে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন। ওঁর এই বদভ্যাস আছে, ওঁকে বিজেপি কর্মীরা তাড়িয়ে দেওয়ায় তাঁকে পালাতে হয়েছে।” তিনি পাশাপাশি নির্বাচন পরবর্তী হিংসা থেকে সকলকে বিরত থাকতে আবেদন জানান। ২০২১ সালের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সংযত থাকার আবেদন জানান সবার কাছেই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে শুভেন্দু এদিন তাঁর ‘ধরনা রাজনীতি’কেও একহাত নেন। বিরোধী দলনেতার কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা দেওয়ার একটা বদ অভ্যাস আছে। কাজ নেই তো ধরনা দাও, এটাই ওঁর সংস্কৃতি।” তাঁর দাবি, স্ট্রংরুমে গিয়ে ওভাবে বসে থাকা আদতে রাজনৈতিক চমক ছাড়া আর কিছুই নয়। শুভেন্দুর মতে, যখনই কোনও নির্বাচনে শাসক দল চাপে থাকে, তখনই তারা নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের নিশানা করতে শুরু করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আরও অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, হার নিশ্চিত জেনেই এখন থেকে আধিকারিকদের ওপর দায় চাপানোর চিত্রনাট্য সাজানো হচ্ছে।
এদিন সাংবাদিকদের সামনে শুভেন্দু আরও দাবি করেন যে, স্ট্রংরুমে সিসিটিভি থেকে শুরু করে কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করা উচিত ছিল না। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গণনার ওপর আস্থা না রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করছেন এবং প্রশাসনকে কালিমালিপ্ত করছেন। যদিও তিনি রিটার্নিং অফিসার বা দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ জানাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
সাখাওয়াত মেমোরিয়াল চত্বরে এদিন ছিল টানটান উত্তেজনা। একদিকে যেমন মুখ্যমন্ত্রীর তরফে কারচুপির আশঙ্কায় সজাগ থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনই শুভেন্দুর পাল্টা যুক্তিতে পরিস্থিতি সরগরম হয়ে ওঠে। বিরোধী শিবিরের দাবি, মমতা আসলে ভয় পেয়েছেন, তাই এই নাটুকেপনা। সব মিলিয়ে ভোট পরবর্তী এই সংঘাতের রেশ বহুদূর যাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শুভেন্দুর এই ‘আটপৌরে’ এবং ‘বদ অভ্যাস’ মন্তব্য যে আগামী দিনে শাসক-বিরোধী তরজায় নতুন জ্বালানি জোগাল, তা বলাই বাহুল্য। এখন নজর ব্যালট বাক্সের ফলাফলের দিকে।